স্কুলের ভিতরে গেলে বেশ কিছু পড়ুয়া তো লক্ষ্য করা যায় কিন্তু এ কী! শিক্ষক কোথায়? গোটা স্কুলে একটা মাত্রই শিক্ষক রয়েছেন। তিনিই পড়াশোনা করাচ্ছেন আবার তিনিই মিড ডে মিলের সব দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। স্কুলে ৮৩ জন মতো পড়ুয়া থাকলেও একজন শিক্ষকই অবশিষ্ট স্কুলে। ফলে সবদিক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ওই শিক্ষকও।
কোথায় রয়েছে এমন স্কুল?
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালের মনসুকা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দীর্ঘগ্রাম শীতলানন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হালই এমন। ওই স্কুলে আপাতত নার্সারি থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাস হয়। স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা ৮৩ জন। আর এই পড়ুয়াদের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন ওই স্কুলের একমাত্র শিক্ষক অর্ধেন্দু পাল। স্কুলের শিক্ষক না থাকায় স্কুলে আসায় অনীহা তৈরি হয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। এই নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন অভিভাবকরা। এভাবে কী আর একটা স্কুল চলে! এই নিয়ে আপাতত সাংসদ দেবের ঘাটাল বেশ উত্তপ্ত।
পর্যাপ্ত শিক্ষক যদি না থাকে, তাহলে এই স্কুল উঠে যেতে আর বেশিদিন সময় লাগবে না। একজন শিক্ষক দিয়ে কী আর পড়াশোনা চালানো যায়। ফলে স্কুলে পড়াশোনাই হয় না সেভাবে, এমনটাই অভিযোগ অভিভাবকদের। আর একজন শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু তাঁর অবসর হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক না থাকায় পড়ুয়াদের নিরাপত্তার ঘাটতিও হচ্ছে।
স্কুলের একমাত্র শিক্ষক অর্ধেন্দু পাল জানাচ্ছেন, তিনি এই বিষয়ে শিক্ষা দফতরে জানিয়েছেন কিন্তু কোনও সুরাহা মেলেনি। সবদিক একা হাতে সামলে উঠতে পারছেন না তিনি। ওই শিক্ষক জানান, নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত একটাই কক্ষে বসিয়ে ক্লাস করান তিনি। আর চতুর্থ শ্রেণীর পড়ুয়ারা অন্য কক্ষে বসে।
এই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অরুণ মাল আপাতত মাঝেমধ্যে স্কুলে গিয়ে অর্ধেন্দু বাবুকে সাহায্য করেন। এই বিষয় নিয়ে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ পুতুল চৌধুরী বলেন, “এই অভিযোগটা আমি শুনেছি। এই নিয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম। খুব শীঘ্রই ওই স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ হবে”।
এই এলাকার অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক বহ্নিশিখা দে এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, অস্থায়ীভাবে একজন শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাঁর মন্তব্য থেকে এটুকু স্পষ্ট যে স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা আপাতত কিছুই হয়নি।






