বিধানসভার সচিবের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ মনোজ টিগ্গারা। গত বৃহস্পতিবার যখন বিজেপি বিধায়করা বিধানসভায় প্রবেশ করছিলেন, সেই সময় বিধানসভার কর্মীরা তাদের পিছনে স্লোগান দিতে দিতে এগোচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা। বিধানসভা সচিবের কাছে সেই কর্মীদের বিরুদ্ধেই সচিবের লাছে অভিযোগ জানান তারা। সেই কর্মীদের একটি তালিকাও ফেসবুক লাইভে প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন শুভেন্দু অধিকারী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর দলের বিধায়কদের বিধানসভা চত্বরেই হামলা করা হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা ক্যাম্পাসের মধ্যে যদি কেউ আক্রান্ত হই, যদি কোনও মহিলা বিধায়কের শারীরিক নির্যাতন হয়, যদি কোনও বিধায়ক খুন হয়ে যান… তার দায়িত্ব সচিবের ঘাড়ে বর্তায়”।
তিনি এও জানান, বিচারবিভাগ থেকেই বিধানসভার সচিবের পোস্টিং হয়, এই পোস্টিং সরকার করে না। শুভেন্দুর কথায়, “আমরা এই গুন্ডাদের চিহ্নিত করেছি। মনোজ টিগ্গার লিখিত অভিযোগ, কিছু কালার ছবি ও প্রামাণ্য সিডি আমরা জমা দিয়েছি। আমরা বিচার চাই। যদি বিচার না দিতে পারেন, আমরা সচিবের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব”।
বিধানসভায় সেই ঘটনার পরই শুভেন্দু অধিকারীদের এক প্রতিনিধি দল যায় বিধানসভার সচিবের ঘরে। সেই সময় তারা স্লোগান দিতে থাকেন। এদিন শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, “আমরা যদি বাইরে খু’ন হই, এর জন্য কে দায়ী থাকবে”। যে কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের বরখাস্ত করার দাবী তোলেন শুভেন্দু।
বিজেপি বিধায়কদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেছেন, “কী ঘটেছিল, তা সবটা আমাদের পক্ষে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে যদি কোনও কর্মচারী, তিনি যে সংগঠন প্রভাবিতই হোন না কেন, বিধায়কদের ধাওয়া করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কারণ, কর্মচারীদের কাজ হল বিধায়কদের পরিষেবা দেওয়া। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এমন কিছু ঘটলে, তা নিন্দাজনক”।
এই বিষয়ে রাজ্যের বর্ষীয়ান মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের যুক্তি, “কেউ মারেনি, কেউ ধেয়েও যায়নি। যে সরকারি কর্মচারীরা মহার্ঘভাতা পেয়েছেন, তাঁরা স্লোগান দিতে দিতে মিছিল করছিলেন”।
শুভেন্দুদের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজ্য কর্মচারী ফেডারেশনের রাজ্য আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন, “আমাদের ছেলেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছিল ডিএ’র ঘোষণায় উৎসাহিত হয়ে। কোনও ফুটেজে নেই যে আমাদের ছেলেরা ওনাদের দিকে গিয়েছিল।’ তাঁর বক্তব্য, ‘ওরা (বিজেপি) আইনি পথে হাঁটলে আমরাও তাই করব। কোথায় আমাদের ছেলেরা আক্রমণ করেছেন? আমাদের গর্ব মুখ্যমন্ত্রী ডিএ ঘোষণা করেছেন, সেই কারণে আমাদের ছেলেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ বলছিল। যদি তাতে ওনার মনে হয় আক্রমণ, তাহলে কিছু বলার নেই”।





