সন্দেশখালির পর এবার দিনহাটাও! মহিলাদের রাতবিরেতে পার্টি অফিসে ডাকার অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে, উদয়নের এলাকায় হইচই

সন্দেশখালি নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত রাজ্য ও রাজনীতি। নারী নির্যাতন, শ্লী’ল’তা’হা’নির অভিযোগ উঠে আসছে সেখান থেকে। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান, উত্তম সর্দার, শিবু হাজরার বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ। উত্তম ও শিবুকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও পলাতক শাহজাহান। এমন আবহে ফের সন্দেশখালির মতোই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল দিনহাটা থেকে। সেখানেও মহিলাদের রাতে পার্টি অফিসে ডেকে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। আর না গেলে বাড়ি ভাঙচুর, মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

কী অভিযোগ করলেন দিনহাটার মহিলারা?

দিনহাটার বুড়িরহাট অঞ্চলের নির্যাতিতা এক মহিলা জানালেন, “যোগ, “আমাকে বিশু ধর, দিলীপ ভট্টাচার্যের গুন্ডাবাহিনী আমাকে রাত বারোটা সময়ে পার্টি অফিসে ডাকে। পিঠে বানানোর নাম করে ডাকে। আমি রাজি হইনি। আমি বলি রাত বারোটায় কেউ যাবে পিঠে বানাতে। মেয়েদের কী সম্মান নেই? আমার বাড়িতে এসে মাঝেমধ্যে অত্যাচার করত। আমি বলতাম, আমার কী সম্মান নেই? আমাকে কি বাঁচতে দেবেন না”?

নির্যাতিতা ওই মহিলার কথায়, “বিকাল চারটের সময়ে আসেন বুথ সভাপতি। বলেন কালকে যেতে হবে। আমি না বলে দিই। আমার তো সম্মান বলে একটা জিনিস রয়েছে। আমি হাতজোড় করে বলি। আমাকে একটু বাঁচতে দিন, আমার সম্মান রয়েছে। আমি যাইনি বলে, রাত বারোটা লোক এসে আমার বাড়িতে ভাঙচুর করে। ওদের একটা খারাপ উদ্দেশ্য রয়েছে। কিন্তু আমি তো সেই ধরনের মহিলা নই”।

তিনি একাই নন। এমন অভিযোগ করেছেন আরও অনেক মহিলাই। আরও এক নির্যাতিতার কথায়, “তৃণমূলের গুন্ডারা রাত ১২ টার সময়ে আমাকে পার্টি অফিসে ডাকে। বলে পিঠে বানাতে হবে। ওদের তো খারাপ মতলব ছিল। আমি যখন রাজি হইনি, তখন পরের রাত ৯টায় এসে আমার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। আমার মাথায় বন্দুক ঠেকায়”।

অন্য এক মহিলাও নির্যাতনের অভিযোগ করে বলেন, “ভোটের গণনার পর দিনই দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। আমার স্বামীকে পায়নি। তারপর আমাকে ধরে”। তারা জানাচ্ছেন, বিগত কয়েকমাস ধরেই এমন ঘটনা ঘটছে। তবে ভয়ের জেরে এতদিন তারা মুখ খোলেন নি। তবে এবার সন্দেশখালির ঘটনা জানার পর সাহস অর্জন করেছেন তারা। ইতিমধ্যেই দু’জন মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে খবর।

কী জানাচ্ছেন উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী?  

এই ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, “সন্দেশখালিকে সামনে রেখে এখন নতুন  পিঠে-কাহিনী চালু করেছে বিজেপি। কোনও নেতাই রাত বারোটা তো দূরের কথা, রাত ১০ টার পর বাইরে থাকেন কিনা, জানি না। পিঠে খাওয়ার বয়স আর নেই।” তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন, “মানুষ যদি মনে করেন, আমি এটা করতে পারি, তাহলে মানুষ আমার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবেন”।

অন্যদিকে, দিনহাটার এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “কোচবিহারের অভ্যন্তরের বেশ কিছু এলাকায় আইন শৃঙ্খলার সমস্যা রয়েছে। যেখানে উদয়নবাবু নিজেই প্ররোচনামূলক অনেক মন্তব্য করেন। অভিযোগ খতিয়ে না দেখে, যারা অভিযোগ করছে, তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর সেই কারণেই সন্দেশখালি তৈরি হয়েছে”।

RELATED Articles