ভগবানের চরিত্র নিয়ে সিনেমা (Cinema) অনেক সময়ই দেখা যায়। সরাসরি ঈশ্বর কেন্দ্রিক সিনেমা না হলেও তার মধ্যে থেকে নতুন গল্প বা হাস্যরস। তবে অনেকেই ভগবানকে নিয়ে কোনো সিনেমায় পছন্দ করেন না। তাদের মনে হয় ভগবান ঈশ্বরীয়, তাকে সিনেমায় (Cinema) টেনে আনার কোন দরকার নেই। ভগবান কোন ছেলে খেলার বিষয়বস্তু নয়, যে তাকে সর্বত্র ডেকে আনা হবে। তাও ভগবানকে নিয়ে সিনেমার শেষ নেই।
ভগবানের চরিত্রে ঠাট্টা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে মনে করেন এক শ্রেণী। ছোটো পর্দা থেকে বড় পর্দায় এমনই কিছু চরিত্র দেখে প্রতিবাদে সরব হন একদল। যদি সেই ভগবানের চরিত্রটি হয় শিবের। তাহলে আর কোন কথাই নেই। মহাদেব কে নিয়ে যেমন না না অলৌকিক গল্প। আর সেই গল্প নিয়েই তৈরি হচ্ছে সিনেমা। সিনেমায় কখনো মানুষের মিশে যাচ্ছেন মহাদেব, আবার কখনো সাধারণ মানুষের সাথে একসাথে থাকছেন তিনি। কখন আবার দেখা যায় শিবের প্রকৃত চরিত্রেই দর্শকদের কাছে ধরা দিচ্ছেন মহাদেব। মহাদেবকে পর্দায় বেশ কয়েকবার এমনভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে, যা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ছবি নির্মাতাদের। কখনও দায়ের হয়েছে অভিযোগ। ভগবানকে নিয়ে সিনেমা করলে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সবসময়।
ছবির চিত্রনাট্যের স্বার্থে এমন অনেক সময় চরিত্র নিয়ে এমন কিছু লেখা হয় যা নিয়ে চর্চা তৈরি হয়। ভগবানের চরিত্র নিয়ে ঠাট্টা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে, আর পর্দায় এমনই কিছু চরিত্র দেখে তাই একশ্রেণি প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠেন। কিছু ছবিতে শিবকে এমনভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে।
জানা যাক, তেমনই কিছু ছবির তালিকা-
রূত্রা তান্ডভম (১৯৭৮)
এটি একটি দক্ষিণী ছবি। যেখানে শিবকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ কিছু মজার সংলাপ বলতে দেখা যায়। তবে তা অধিকাংশই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তা নিয়ে বিতর্ক হয় সেসময়।
আপাধানধাভুদু (১৯৯২)
এই ছবিতে শিবের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন চিরঞ্জীবী। সেখানে তাঁকে বাইক চালাতে দেখা যায়, ডন লুকে শিবকে এখানে উপস্থাপনা করায়, বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল ছবির নির্মাতাকে।
ব্রহ্মচারী (১৯৯২)
এটি একটি তামিল ছবি। যেখানে শিবঠাকুরের চরিত্রকে পর্দায় হাস্যকৌতুকের চরিত্র হিসেবে উপস্থাপনা করা হয়। যা নিয়ে দর্শক মহলে বিতর্ক দানা বাঁধে।
মাহা রায়ুডু (১৯৯৪)
এটি একটি তেলুগু ছবি। এই ছবির বেশ কিছু মজার সংলাপে শিব ঠাকুরের মুখে বসিয়ে দেওয়া হয়। তাতেই ক্ষেপে যান দর্শকরা।
এনিয়ে সেসময় বিতর্ক ছিল তুঙ্গে। এই সিনেমায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি সেসময়।
পি.কে (২০১৪)
এই ছবির বেশ কয়েকটি দৃশ্য বিতর্কের কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছিল। তবে একটি দৃশ্যে দেখানো হয় আমির খান এক বহুরূপী শিবকে তাড়া করেছেন। যা নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় এই সিনেমা নিয়ে।
এরাদানেসালা (২০১৭)
এই সিনেমায় ভগবান শিবকে এক সাধারণ মানুষের জীবন যাপন করতে দেখা যায়। যদিও খারাপ চরিত্র হিসেবে তা উপস্থাপনা করা হয়নি সেই চরিত্রকে। তবে সেই চরিত্রের ইংরেজি বলার চেষ্টা বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল।






