‘কোনও তৃণমূলের লোককে নাগরিকত্ব দেব না’, ভোটের আগে বেফাঁস মন্তব্য শান্তনু ঠাকুরের, প্রবল বিতর্কের মুখে মতুয়া গড়ের বিজেপি প্রার্থী

লোকসভা ভোটের ঠিক আগেই দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ। এটা যে বিজেপির একটা বড় মাস্টারস্ট্রোক, তা বলাই বাহুল্য। দীর্ঘদিন ধরে সিএএ নিয়ে চলেছে বিতর্ক। ২০১৯ সালে এই বিল পাশ হলেও তা কার্যকর হয়নি নানা বাধায়। সিএএ নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বলেই দিয়েছেন তিনি সিএএ কার্যকর হতে দেবেন না বাংলায়। এমন আবহে এবার সিএএ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর (Shantanu Thakur)।

কী বলেছেন শান্তনু ঠাকুর (Shantanu Thakur)?

পাঁচপোতায় নির্বাচনী সভা করেন বনগাঁর বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর (Shantanu Thakur)। সেই সভা থেকেই তিনি বলেন, “একটাও তৃণমূলের লোকেদের আমরা নাগরিকত্ব দেব না। একটা টিএমসিকেও নাগরিকত্ব দেব না। তারপর ওদের খ্যামটা নাচ কাকে বলে দেখাব। বড় বড় কথা না! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁচাক ওদের”।

নিজের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দিয়ে বিজেপি নেতা বলেন, “যাঁরা সিএএ-র বিরোধিতা করছে তাঁরা যদি নাগরিকত্ব নিতে আসে তাহলে একাত্তর সালের আইন অনুসারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন নাগরিকত্ব দিতে পারে। ভোটার কার্ডে যেন সেটা সম্পূর্ণ হয়। ওদের তো সিটিজেনশিপ দরকার নেই। বলে দিয়েছে। কেন তাহলে দিতে যাব”? 

তবে শান্তনুর (Shantanu Thakur) এহেন মন্তব্যের সঙ্গে মোটেই একমত নন মতুয়ারা। এক মতুয়া ভক্তের কথায়, “শান্তনু ঠাকুরের মন্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না। একজন মতুয়া হিসাবে তিনি যে কথা বলছেন তা ঠিক নয়। আমরা দাবি করছিলাম নিঃশর্ত নাগরিকত্ব। শান্তনু ঠাকুর মতুয়াদের ভাওতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা ধিক্কার জানাই”। 

বিজেপি প্রার্থীর (Shantanu Thakur) এই মন্তব্যের প্রসঙ্গে বর্ধমান-দুর্গাপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ, “সরকার সকলের জন্য আছে। আমরা সবকা সাথ সবকা বিকাশের কাজ করি। আজ তাঁরা তৃণমূল করছেন কাল বিজেপি করবেন। সরকার সবার অধিকার সুরক্ষিত করবে”।

বিজেপি নেতার এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি তৃণমূল। তীব্র আক্রমণ শানিয়ে ব্রাত্য বসু বলেন, “উনি কখন কী বলেন কিছুই ঠিক থাকে না। উনি নিজে বলেছিলেন সিএএ চালু হওয়ার পর উনি প্রথম কেন্দ্রীয় সরকারের পোর্টালে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন। সেই আবেদন উনি এখনও করেননি। তাবলে কেন্দ্রীয় সরকারের পোর্টালকে কেন্দ্রের প্রতিমন্ত্রী (Shantanu Thakur) নিজেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি উনি ভালই আয়ত্ত্ব করেছেন”।

আরও অন্যান্য খবর