Benefits of Panta Bhat: পান্তা ভাত বা জল ঢালা ভাত গরমে একমাত্র সুপারহিট খাবার এটাই। নুন, গন্ধরাজ লেবু, আলু ভর্তা বা আলু মাখা, সর্ষের তেল, কাঁচা পিঁয়াজ আর একটা কিছু ভাজা তীব্র গরমে এর চেয়ে সস্তায় পুষ্টিকর খাবার আর একটাও নেই (Benefits of Panta Bhat)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে ওয়ারেন হেস্টিংস সকলেরই প্রিয় খাবার ছিল পান্তা। এমনকি মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়াতেও বিচারকদের পান্তা ভাত খাইয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন বাংলাদেশের কিশোয়ার চৌধুরী। বিরাট কোহলি স্ত্রী অনুষ্কা শর্মাও পান্তা ভাত খেয়ে মুগ্ধ হয়ে ইন্সটাগ্রাম স্টোরি দিয়েছিলেন। এক সময় যে পান্তা ভাত ছিল সমাজের নিচু তলার খেটে খাওয়া মানুষদের খাবার, আজ সেই পান্তা ভাত পরিবেশন করা হয় নামি দামি রেস্তোরাঁতে।
পান্তা ভাতের আসল ইতিহাস কি জানেন (Benefits of Panta Bhat)?
পান্তা ভাত বা ফার্মেন্টেড রাইস বাইরে যখন তাপমাত্রা ৪৩ বা ৪৪ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে, তখন কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, আলু ভর্তা দিয়ে পান্তা ভাত ভরসা নিম্নবিত্ত মানুদের। মধ্যবিত্তরা অবশ্য ইলিশ ভাজা, চিংড়ি ভাজা, পমফ্রেট ভাজা, ডিম ভাজা সুস্বাদু পদের সাথে পান্তা ভাত খেয়ে থাকেন (Benefits of Panta Bhat)। ইতিহাস বলছে এই পান্তা ভাতের পথ চলা শুরু হয়েছিল পাঁচ হাজার বছর আগে। এমনকি রামায়ণের সময়কালেও নাকি মুনি ঋষিরা পান্তা ভাত খেয়ে জীবন যাপন করতেন। পুরীর জগন্নাথ দেবকে আজও সুভাস পাখারা নামক এক পান্তা ভাতের ভোগ নিবেদন করা হয়। ভারতে পান্তা ভাত প্রবল জনপ্রিয়তা পায় মুঘল আমলে। ওই আমলে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের পান্তা ভাত খাওয়ানো হতো বলে জানা গেছে।
আজ ভারতবর্ষের সব জায়গায় বিখ্যাত পান্তা ভাতের এই পদ। কোথাও এটির নাম পৈতো ভাত, কোথাও পাজাম কাঞ্চি আবার কোথাও এটি বিখ্যাত পদভেজু সানাম নামে। জানলে অবাক হবেন, বাঙালিরা কিন্তু দেবী দুর্গা থেকে দেবী সরস্বতীকে পান্তা ভোগ নিবেদন করেন। বৈষ্ণবরা রাধাকৃষ্ণের সামনেও ভোগ হিসেবে পান্তা সাজিয়ে দেন। রবীন্দ্রনাথ নিজের জীবন স্মৃতিতে লিখে গেছেন চিংড়ি মাছের চচ্চড়ি দিয়ে পান্তা ভাত ও সাথে একটু লঙ্কা এই ছিল ছোট্ট রবি ঠাকুরের পছন্দের খাবার। আবার চিংড়ি দিয়ে পান্তা খেয়েও ওয়ারেন হেস্টিংও প্রেমে পড়েছিলেন বাঙালির জল ঢালা ভাতের (Benefits of Panta Bhat)।
১৭৫৬ সালে যখন সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করলেন তখন লর্ড হেস্টিংস ছিল একজন সামান্য ক্লার্ক। সিরাজউদ্দৌলার ভয়ে হেস্টিং পালিয়ে লুকালেন বাঙালি বন্ধু কৃষ্ণকান্ত নন্দীর বাড়িতে। প্রথম দিন দুপুরে ক্লান্ত ক্ষুধার্ত হেস্টিংসকে পান্তা ভাত ও কুঁচো চিংড়ি খেতে দিলেন কৃষ্ণকান্ত নন্দী। ওই যে হেস্টিংস পান্তা ভাতের প্রেমে পড়লেন বড়লাট হয়েও তিনি কুঁচো চিংড়ি ও পান্তা ভাত খেতেন (Benefits of Panta Bhat)।
পান্তা ভাত খাওয়ার আসল নিয়ম হচ্ছে ভাত রান্না করে সেটিকে ১০-১২ ঘন্টা জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। ফ্যাশন এর সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অনেকেই রান্না করার পর জলে ভাতটাকে ভিজিয়ে ঘন্টাখানেকের মধ্যে খেয়ে নেন। এতে পান্তার আসল উপকারিতা ও স্বাদ কিছুই পাওয়া যায় না (Benefits of Panta Bhat)।
বৈজ্ঞানিকদের গবেষণা অনুযায়ী, ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখা ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে আয়রন, পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের আধিক্য পাওয়া যায়। যা এই গরমে শরীরে জলের অভাব দূর করে। আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়ম করে পান্তা খেলে নানা পেটের রোগ, এবং কোষ্ঠকাঠিন্যতে ও উপকার মেলে (Benefits of Panta Bhat)। তাই হয়তো গ্রামের দাওয়ায় বসে খাওয়া পান্তা আর জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় সুপারস্টার বিরাট কোহলির খাবার টেবিলে। বিরাট পত্নী হয়তো খোঁজ পেয়েছেন এই পান্তা ভাত কে বিউটি সিক্রেট অফ এশিয়া নামেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাই তীব্র গরমের দিনে সবাইকে এক করে দিয়েছে পান্তা ভাত।






