মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে, কলকাতা পৌরসভা তৈরি করছে ‘অস্থায়ী রেশন কার্ড’

করোনার ত্রাসে কম্পিত গোটা দেশ এমন সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাকে দেশজুড়ে মানুষ ২১ দিনের লকডাউন মেনে চলছেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে পড়ে অনেক মানুষ দুমুঠো অন্য জোগাড় করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে যেন কারও খাবারের সমস্যা না হয় তা সুনিশ্চিত করতে রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার।

ইতিমধ্যেই যাঁদের রেশন কার্ড রয়েছে তাঁদের জন্য একাধিক সুবিধার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এখনও অনেকে ডিজিটাল রেশন কার্ড পাননি। তাঁদের জন্যও এবার ব্যবস্থা নেবে কলকাতা পুরসভা। পুরসভার তরফে জানানো হল এই মুহূর্তে আড়াই লক্ষ মানুষকে অস্থায়ী রেশন কার্ড দেওয়ার ব্যবস্তা হবে।

মঙ্গলবার খাদ্যভবনে জরুরি বৈঠক করেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেখানে উপস্থিতি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বৈঠক শেষে মেয়র বলেন, “লকডাউনের ফলে ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রয়েছে। আবার অনেক রেশন কার্ড পোস্টাল ডিপার্টমেন্টে পড়ে আছে।

লকডাউনের কারণে অনেক আবেদনরত রেশন কার্ড তৈরি করা যাচ্ছে না এর ফলে অনেকে রেশন তুলতে পারছেন না। তাঁদের জন্য ১০ তারিখের মধ্যেই অস্থায়ী রেশন কার্ড দেওয়া হবে। কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে প্রত্যেককে কুপন দেওয়া হবে। এই কুপন দেখিয়েই রেশন তুলতে পারবেন তাঁরা।”

এর আগে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রেশনে ২ টাকা কেজি দরের চাল বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রেশন একেবারে তুলও নেওয়া যাবে।

করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের মধ্যে বারেবার যাতে রেশনের দোকানে লাইন দিতে না হয়, তার জন্যই এই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বার বার লাইনের ফলে অনেক লোকের জমায়েত হবে এবং সংক্রমনের একটা আশঙ্কা থেকে যায়। তাই সেই আশঙ্কা এড়াতে এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আশা করা হচ্ছে এই অস্থায়ী রেশন কার্ড দরিদ্র মানুষদের ঘরেও অন্ন পৌঁছে দিতে পারবে এবং এই মারণ ভাইরাসের মোকাবিলায় তারা ভরা পেটেই লড়াই করবে।

আরও অন্যান্য খবর