বর্তমানে রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯। রাজ্য সরকারের তৎপরতায় সুস্থ হয়ে উঠছেনও একাধিক আক্রান্ত। ইতিমধ্যেই করোনা মোকাবিলায় রাজ্যে অনেক আগে থেকেই চলছে লকডাউন। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে মানুষের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এবার সাধারণ মানুষের জন্য পথে নামল রাজ্য পুলিশ। যদিও পুলিশ বাহিনী এই কয়েকদিনে দক্ষ হাতে একাধিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে কিন্তু এবার আরক্ষা বাহিনীর মানবিক মুখ দেখে খুশি সাধারণ মানুষরা।

কলকাতা পুলিশের এন্টালি ও গড়িয়াহাট থানার পুলিশ-এর ‘উই শ্যাল ওভারকাম’ ও বেলা বোসের প্যারডি গেয়ে ইতিমধ্যেই মানুষের মন জয় করেছে প্রশাসন। এইবার রাজ্য পুলিশের কমান্ডেন্ট স্টেট আর্মড পুলিশ ফার্স্ট ব্যাটালিয়ন-এর আইপিএস অফিসার দেবাশিস ধর-এর দায়িত্বে ব্যারাকপুর স্টেশন সংলগ্ন বস্তিবাসীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খিচুড়ি ও ডিম খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। যদিও ২৮শে মার্চ থেকেই এই মহান উদ্যোগের সূচনা হয়েছে। প্রত্যেক দিন বস্তিবাসীদের দিন রাতের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্যে বিভিন্ন রকম পদ রান্না করা হচ্ছে রাজ্য পুলিশের তরফে। এছাড়াও গতকাল রাজ্য পুলিশের তরফে স্থানীয় অনাথ আশ্রম ‘বাচপন বয়জ হোম’-এর ১০০ জন বাচ্চাদের সম্পূর্ণ খাবারের দায়িত্ব নেওয়া হয় এবং তাদের জন্য চাল, আলু ও ডিম ইত্যদির ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও অনাথ আশ্রমের বাচ্চাদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের থেকে মাস্কও বিতরণ করা হয়।
আগেই কলকাতা পুলিশের এন্টালি ও গড়িয়াহাট থানার পুলিশের গান গেয়ে সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়ানোর কথা খবর ২৪x৭-এর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে। রাজ্য পুলিশও এবার তাদের নিজস্ব মিউজিক ব্যান্ড দ্বারা খড়দহের ‘গোদরেজ প্রকৃতি’ কমপ্লেক্স-এর সামনে গান গেয়ে মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর প্রচেষ্টা শুরু করেছেন। সাধারণ মানুষও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মন খুলে এবং তারাও গলা মিলিয়েছেন প্রশাসনের সুরে।

শুধু ব্যারাকপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশনেই এই উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশ এই উদ্যোগে স্থানীয় মানুষদের কাঁচামাল না ধরিয়ে রান্না করা খাবার জোগান দিচ্ছে। কারণ প্রশাসনের বক্তব্য সম্বলহীন মানুষের পক্ষে এখন রান্না করা সম্ভব নয়। করোনা ভাইরাসের বিপদের সময়ে রাজ্য পুলিশের এই সাধু উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাচ্ছে খবর ২৪x৭।






