গত ৩৪ দিন ধরে কর্মবিরতি চলছে জুনিয়র চিকিৎসকদের। গত মঙ্গলবার থেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন তারা। তাদের ৫ দফা দাবী না মেটা পর্যন্ত তারা এই আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না, জানিয়ে দিয়েছেন। এরই মধ্যে আজ, শনিবার আচমকাই ধর্নাস্থলে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে যা খাবার দিচ্ছে, তা না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
গত মঙ্গলবার থেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেদিন থেকেই সেখানে ত্রিপল, জল, খাবারের ব্যবস্থা হয় তাদের জন্য। কোনও সংগঠন তো আবার সাধারণ মানুষরা নানানভাবে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। খাবার বা জলের কোন কমতি হয় না। বরং খাবার এত বেশি পরিমাণে আসতে থাকে যে তা আশেপাশে দুঃস্থ মানুষজনকে দিয়েছিলেন তারা।
খাবার এত পরিমাণে আসতে থাকে যে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় খাবার পাঠাতে না করেন চিকিৎসকরা। তবে এই খাবারেই আশঙ্কার আঁচ পান রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা। এমন আবহে আবার তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও চাঞ্চল্যকর দাবী করেন। বলেন, খাবার খেয়ে কারোর ভালোমন্দ কিছু হয়ে গেলে, সেই দায় রাজ্যকেই নিতে হত।
তিনি বলেন, “খাবারের সঙ্গে কে কী দেবে তার দায় কে নেবে। ওখানে এক একটা রাজনৈতিক দলের কেউ কেউ গিয়ে নানারকমের জিনিস দিচ্ছেন। কে সেগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে? যা হবে, তা তো এখন সরকারের দায়। ফলে, চূড়ান্ত সতর্কতার ব্যবস্থা হোক। গোটা এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হোক”।
এরই মধ্যে আজ, শনিবার ধর্নাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বৃহস্পতিবার নবান্নে গিয়েও জুনিয়র চিকিৎসকরা বৈঠক না করায় যে একটা গুমোট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা একটু কাটে এদিন। এদিন ধর্নাস্থল থেকেই চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেওয়ার আবেদন জানান মমতা। বলেন, “আপনারা কাজে যোগ দিন। আমি আপনাদের দাবিগুলো দেখব। আমি একা সরকার চালাই না। আমি অফিসারদের সঙ্গে কথা বলব। আমাকে একটু সময় দিন। আপনাদের প্রতি আমি কোনও অবিচার করব না। কাজে ফিরুন। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে”।
এরইস সঙ্গে তিনি জুনিয়র চিকিৎসকদের সাবধান করে বলেন, “যে যা খাবার দিচ্ছে, সব খাবার খাবেন না”। কোনও আশঙ্কা থেকেই কী এমন সাবধান বাণী মমতার? উঠছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ আচমকাই জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্নাস্থলে হাজির মমতা, ‘মুখ্যমন্ত্রী নয়, দিদি হয়ে এসেছি, কাজে ফিরুন ’, বললেন মুখ্যমন্ত্রী, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান আন্দোলনকারীদের
এদিন মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, “আমি সব হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দিলাম। এবার থেকে রোগী কল্যাণ সমিতিতে অধ্যক্ষদের চেয়ারম্যান করব। সেই সমিতিতে থাকবে জুনিয়র ডাক্তার, সিনিয়র ডাক্তার, নার্স, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ। আর জি কর সহ সব কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দিলাম”।






