আর জি করের তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় গতকাল, শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে। দেরি করে এফআইআর দায়ের ও তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। সূত্রের খবর, এবার সিবিআইয়ের স্ক্যানারে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। বড় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে সিপি-র বিরুদ্ধে।
টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে তিলোত্তমা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তবে সিবিআইয়ের অনুমান, সেই গাফিলতি ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয়েছে। কিছু মানুষকে ভুল পথে চালনা করেছেন তিনি। সিবিআইয়ের প্রশ্ন, কার নির্দেশে এমনটা করেছেন ওসি।
জানা গিয়েছে, ওই ওসিকে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতারির পরও প্রায় সারারাত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সিজিও কমপ্লেক্সে। সেই জেরাতে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। এরই সঙ্গে ডিসি ডিডি স্পেশ্যাল ও ডিসি নর্থকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই, এমনটাই খবর। জানা গিয়েছে, এই দুই আইপিএস আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
সিবিআই সূত্রে খবর, অভিজিৎ মণ্ডলের বয়ানে বেশ কিছু ফাঁক রয়েছে। ঘটনাক্রম থেকে যে কল রেকর্ড সিবিআই পেয়েছে, সেসবের সঙ্গে সাক্ষীদের বয়ানে অমিল রয়েছে। আর সেই অমিল পুলিশ কমিশনারের দেখা উচিত ছিল যা তিনি করেন নি। সিবিআইয়ের হাতে একটি কল রেকর্ড রয়েছে যেখানে বিনীত গোয়েল ও অভিজিৎ মণ্ডলের মধ্যে কথোপকথন রয়েছে। কিন্তু সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তা এড়িয়ে যান ওসি। এর নেপথ্যে কী অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা জানতে চায় সিবিআই। সেই কারণেই এবার বিনীত গোয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে সিবিআইয়ের তরফে এমনটাই জানা যাচ্ছে।
বলে রাখি, গত ১৪ আগস্ট আর জি করে হামলার দিন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল বলেছিলেন, “আমরা কোনও কিছু ভুল করিনি। আমি আমার অন্তর থেকে বলছি, আমরা কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি না। যদি সিবিআই প্রমাণ করতে পারে, আমি কিংবা আমার টিমের কেউ কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করছি, তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করছি, আমাদের দায় থাকবে। আমরা রেসপন্সিবল ফোর্স, এভাবে তথ্য প্রমাণ লোপাট করা যায় না”। এবার বিনীত গোয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কোনও বড় তথ্য মেলে কী না, সেটাই দেখার!






