‘পুলিশের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ সিবিআই প্রমাণ করতে পারলে তার দায় আমি নেব’, বলেছিলেন বিনীত গোয়েল, টালা থানার ওসির গ্রেফতারির পর কী প্রতিক্রিয়া সিপি-র?

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই ঘটনায় আঙুল ওঠে কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের দিকে। এবার আর জি করের ঘটনায় তথ্য প্রমাণ লোপাট ও দেরিতে এফআইআর দায়েরের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে। পুলিশ আধিকারিক গ্রেফতার হওয়ায় কী প্রতিক্রিয়া দিলেন পুলিশ কমিশনার?

গত ১৪ আগস্ট মধ্যরাতে আর জি করে চলে দুষ্কৃতীদের হামলা। চিকিৎসকদের উপর হামলা তো বটেই, এরই সঙ্গে ভাঙচুর করা হয় হাসপাতালের নানান ওয়ার্ড। সেই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল প্রশ্নের মুখে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

সেই সময় বিনীত গোয়েল বলেছিলেন, “আমরা কোনও ভুল করিনি। আমি হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে আমার দলের সমস্ত সদস্যের তরফে বলছি, আমরা কাউকে বাচানোর চেষ্টা করিনি। কাউকে না, কাউকে না। যদি সিবিআই প্রমাণ করতে পারে আমি বা আমার লোকেরা কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে বা কোনও তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করেছে আমরা তার জন্য দায়ী থাকব। আমরা একটি দায়িত্বশীল বাহিনী। আপনি এভাবে প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন না”।

তবে পুলিশ যে তথ্য প্রমাণ লোপাটের সঙ্গে জড়িত, তা তো টালা থানার ওসির গ্রেফতারিতে বেশ স্পষ্ট। তাহলে এখন কী বলছেন পুলিশ কমিশনার? সত্যিই এই ঘটনার দায় তিনি নেবেন তো? কী প্রতিক্রিয়া তাঁর এই ঘটনায়। উঠছে এমন নানান প্রশ্ন।

যদিও পুলিশ কমিশনারের তরফে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের গ্রেফতারির পর ফের একবার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগ নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। এর আগে জুনিয়র চিকিৎসকরা পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবীতে লালবাজার অভিযান করে পুলিশ কমিশনারের হাতেই তাঁর পদত্যাগের ডেপুটেশন জমা দিয়ে এসেছিলেম। এবার ফের একবার তাঁর পদত্যাগের দাবী উঠল।

আরও পড়ুনঃ ‘সন্দীপ আর টালা থানার ওসির গ্রেফতারির খবর আগেই পেয়েছিলেন, সেই কারণেই আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নি মুখ্যমন্ত্রী’, দাবী জুনিয়র চিকিৎসকদের

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, বিনীত গোয়েল বেশ কয়েকবার তাঁর কাছে পদত্যাগের আর্জি নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তিনি সেই আর্জিতে সমর্থন জানান নি। সাফাইতে মমতা বলেছিলেন, সামনে দুর্গাপুজো, সেই সময় নিরাপত্তার খাতিরে সিপি-র পদত্যাগ গ্রহণ করেন নি তিনি। তবে এবার ওসির গ্রেফতারিতে কী প্রতিক্রিয়া দেন পুলিশ কমিশনার বা পুলিশমন্ত্রী, এখন সেটাই দেখার!

RELATED Articles