‘ধৃত’ একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার, তা সত্ত্বেও আর জি করে নিরাপত্তায় সিভিক ভলেন্টিয়ারই নিয়োগ কেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে রাজ্য

আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষ’ণ এবং খু’নের ঘটনায় নারী সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে। বিচারের সাথে সাথে চলছে নারী সুরক্ষা এবং নিরাপত্তায় জোর দেওয়ার জন্য আন্দোলন। আর জি কর হাসপাতালের ঘটনায় ধৃত সঞ্জয় রাইও পেশায় ছিলেন সিভিক ভলেন্টিয়ার। তারপরেও রাজ্য সরকার মেডিকেল কলেজগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং বেসরকারি সংস্থার চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করবে বলে জানায়।

এবার রাজ্যের মেডিকেল কলেজগুলির নিরাপত্তায় সিভিক ভলেন্টিয়ার সহ কোনওরকম চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগে আপত্তি জানাল সুপ্রিম কোর্ট। এই মেডিক্যাল কলেজ গুলিতে শুধুমাত্র স্থানী পুলিশ কর্মীদের কেন নিয়োগ করা হবে না এই নিয়ে প্রশ্ন করেন দেশের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। এর উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী জানান, “রাজ্যের ৪৫টি হাসপাতালে রাতে মহিলা চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীদের নিরাপত্তায় ৯১০ জন মহিলা পুলিশকর্মীকে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে”।

এদিন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় প্রশ্ন করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মোট ৪৫টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে কলকাতা পুলিশের এলাকায়। ১৮ বছর বয়সী মেয়েরা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে এখানে পড়তে আসে। তারা তখনও বাচ্চারই মতো। তাদের বাবা মায়ের উদ্বেগ নিরশন করা আমাদের কর্তব্য। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী করে চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা যেতে পারে?”

নিরাপত্তায় জোর দিতে সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং বেসরকারি সংস্থার চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করার হলফনামা দেখে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় আরও প্রশ্ন তুলে বলেন, “কোনও সরকারি হাসপাতালে সিভিক ভলান্টিয়াররা যে কোনও জায়গায় ঘুরে বেড়াতে পারেন না। এরকমই একজন সিভিক ভলান্টিয়ার এই ঘটনায় অভিযুক্ত। তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে আদালতের মনে প্রশ্ন রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তারক্ষীও ভরসা করার মতো নয়। কেন মেডিক্যাল কলেজগুলিতে স্থায়ী পুলিশকর্মী নিয়োগ করছে না রাজ্য সরকার?”

আরও পড়ুনঃ ‘কেন রাতে কাজ করবে না মেয়েরা, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তো সরকারের’, সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য সরকার

এর জবাবে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বাল বলেন, “প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে স্থায়ী পুলিশকর্মীরাও। বাড়তি ব্যবস্থা হিসাবে চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়েছে”। কিন্তু আইনজীবীর কথায় আশ্বস্ত বোধ করতে পারেননি প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়।

 

এরপর রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বাল আরও বলেন, ” রাতে মেডিক্যাল কলেজে মহিলা চিকিৎসক ও অন্য মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তায় ৯১০ জন মহিলা পুলিশকর্মীকে নিয়ে বিশেষ বাহিনী তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। তাদের প্রশিক্ষণ চলছে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে। তারা দ্রুত কাজে যোগদান করবেন”। তবে কত দিনে তারা কাজে যোগ দেবেন সেই বিষয়ে ঠিক করে কোনও তথ্য দিতে পারেননি আইনজীবী।

Debdut Bhattacharjee

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর