আজ, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ছিল আর জি কর মামলার শুনানি। এদিন আদালতে তদন্তের স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই। সেই রিপোর্টে বেশ খুশি হন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-খুনের মামলায় যে প্রশ্নগুলি উঠে এসেছে, সেগুলি নিয়েই তদন্ত করছে সিবিআই, জানান প্রধান বিচারপতি। এদিন হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়েও সওয়াল-জবাব হয় শীর্ষ আদালতে।
আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নারী সুরক্ষা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজ্য ঠিক কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা এদিন জানতে চান প্রধান বিচারপতি। রাজ্যের তরফের বিজ্ঞপ্তি শুনে এদিন বেজায় চটে যান বিচারপতি।
এদিন আদালতে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, আর জি কর কাণ্ডের পর রাজ্যে ইতিমধ্যেই সুরক্ষা নীতি চালু হয়েছে। মহিলা চিকিৎসকদের কাজের সময় বেঁধে ১২ ঘণ্টা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মহিলা চিকিৎসকদের নাইট ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একথা শোনার পরই প্রধান বিচারপতি বলেন, “মেয়েরা রাতে কাজ করবে না, একথা কী করে বলছেন? তারা তো কোনও অতিরিক্ত সুবিধা চায়নি এ বিষয়ে। তারা পুরুষদের মতোই একই শিফ্টে কাজ করতে প্রস্তুত। সিবল, আপনাকে এটা মনে রাখতে হবে, প্রশ্নটা তাদের সুরক্ষা নিয়ে। ডিউটি আওয়ার নিয়ে নয়”।
ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের কথায়, “সুরক্ষাবিধি নিয়ে এই বিজ্ঞপ্তিটি রাজ্য সরকারের সংশোধন করা উচিত। সরকারের দায়িত্ব নিরাপত্তা দেওয়া। রাজ্য কখনওই বলতে পারে না, মহিলা ডাক্তাররা রাতে কাজ করবে না। পাইলট থেকে সেনা– সব জায়গায় রাতে কাজ করছে মেয়েরা”।
এর প্রেক্ষিতে কপিল সিব্বল আদালতে জানান, “রাতে কাজ করতে বারণ করা হয়েছিল কারণ এই মুহূর্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। আমরা নিরাপত্তা বাড়াচ্ছি। তার পর মহিলা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা রাতেও কাজ করতে পারবেন। সরকার এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে”।
আরও পড়ুনঃ ভয়ঙ্কর! আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে গিয়েই আলাপ, বন্ধুত্ব! সেই ‘প্রতিবাদী’ সঙ্গিনীকেই গণধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের জালে অভিযুক্তরা
তবে প্রধান বিচারপতির কথায়, “রাজ্য সরকারকে বলুন এখনই আগের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করতে। কারণ, মহিলারা এখন ইক্যুয়াল পার্টনার। তাঁদের পুরুষ চিকিৎসকদের মতোই পূর্ণ সময় কাজ করার অধিকার রয়েছে”।





