করোনার প্রভাবে এখন সারা দেশ ভীত হয়ে রয়েছে। এই সময় নিজেদের ভয়কে জয় করেও কাজ করে চলেছেন জরুরী পরিষেবার সাথে যুক্ত মানুষজন। ডাক্তার, নার্স সহ বিভিন্ন স্বাস্হ্যসেবায় নিয়োজিত মানুষজন নিজেদের পরিবার পরিজনকে ছেড়ে এই পরিস্হিতিতে লড়ে চলেছেন। ইতিমধ্যে করোনা সংক্রমন রোধে দেশের সামনে এক মডেল হিসেবে উঠে এসেছে রাজস্থানের ভিলওয়াড়া। অধিক সংক্রামিত এলাকাকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে তারা সংক্রমন রোধের যে উপায় দেখিয়েছে তা এখন দেশে সর্বত্র কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। এবার সেখানেই জরুরি পরিষেবায় নিযুক্ত এক দম্পতি সাত বছরের মেয়েকে বাড়িতে রেখে দেশবাসীর সেবায় প্রাণপাত করে চলেছেন।
রাজস্থানের পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত সরোজ কুমার জানান তাঁর স্বামী মহাত্মা গাঁধী হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে কাজ করছেন। সংক্রমণের আশঙ্কায় তিনি গত ১৫ দিন ধরে বাড়িতে আসেননি। আর তিনি নিজে একজন পুলিশকর্মী হিসেবে দেশের জন্য কর্তব্য পালন করে চলেছেন। এমতাবস্থায় দিনরাত এক করে এই করোনার হাত থেকে মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করে চলেছেন দুজনেই।
কিন্তু তার তো নিস্তার নেই। পুলিশকে এখন রোজ মানুষকে সচেতন করতে হচ্ছে, তাদের বাড়িতে থাকতে অনুরোধ করতে হচ্ছে। আর সেই কারণেই রোজ সাত বছরের ছোট মেয়ে দীক্ষিতাকে বাড়িতে তালাবন্দি করে রেখে বেরিয়ে পড়ছেন তিনি। আট ঘণ্টারও বেশি সময় বাড়িতে একা থাকতে বাধ্য হচ্ছে ছোট্ট মেয়েটি। তবে এবিষয়ে দিক্ষীতা জানিয়েছে, ‘আমার মা রোজ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। তিনি আমাকে বাড়িতে তালাবন্ধ করে রেখে চলে যাচ্ছেন। আমার বাড়িতে একা থাকতে ভয় লাগে না। আমি বাড়িতে বসে পড়ি, টিভি দেখি।’ শুধু জরুরি বিভাগে কর্মরত মানুষই নন তাদের পরিবারও তাদের সাথে দেশের জন্য লড়ছেন। আর এই কথাটি আজ প্রমান করে দিল দিক্ষীতা।







