সালটা ছিল ২০০৮। আজ থেকে ১৬ বছর আগে এমনই এক অক্টোবরের দিনে বাংলা থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছিল টাটা গ্রুপ। আর ২০২৪ সালের ঠিক এমনই অক্টোবরের রাতে চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন টাটা গ্রুপের প্রাক্তন চেয়ারম্যান দেশের অন্যতম প্রথম সারির শিল্পপতি রতন টাটা। তাঁর প্রয়াণে গোটা দেশে নেমেছে শোকের ছায়া। রতন টাটার প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও।
বাংলার সিঙ্গুর অধ্যায়। বলা হয়, এই সিঙ্গুর অধ্যায়ের মধ্যে দিয়েই বাংলায় ৩৪ বছরের বাম শাসনের পতনের বীজ বপন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন অনশন করেছিলেন সিঙ্গুরে যাতে টাটা গ্রুপের কোম্পানি না আসতে পারে। ফলস্বরূপ, বাংলার বদলে গুজরাতের সানন্দে টাটা গ্রুপের কোম্পানি করার সিদ্ধান্ত নেন রতন টাটা। সেই সময় আবার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০০৮ সালে বাংলা থেকে বিদায় নেওয়ার আগে রতন টাটা বলেছিলেন, ব্যাড ‘এম’-র পরিবর্তে তিনি গুড ‘এম’-কে বেছে নিলেন।
গতকাল, বুধবার সন্ধ্যায় না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন সেই প্রবাদপ্রতিম শিল্পপতি। গত কয়েকদিন ধরেই তাঁর অসুস্থতার খবর মিলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিরনিদ্রার দেশে রতন টাটা। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে দেশের নানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তারকারা। তাতে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
রতন টাটার প্রয়াণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোকজ্ঞাপন করে লেখেন, “রতন টাটার মৃত্যুতে শোকাহত। টাটা গ্রুপের প্রাক্তন চেয়ারম্যান রতন টাটা ভারতীয় শিল্পের একজন অগ্রণী নেতা এবং একজন জন-উৎসাহী জনহিতৈষী মানুষ। তাঁর মৃত্যু শিল্পজগতে অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর পরিবারের সকল সদস্য ও সহকর্মীদের প্রতি আমার সমবেদনা”।
Saddened by the demise of Ratan Tata, Chairman Emeritus of the Tata Sons.
The former Chairman of Tata Group had been a foremost leader of Indian industries and a public-spirited philanthropist. His demise will be an irreparable loss for Indian business world and society.
My…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) October 9, 2024
বাংলায় ন্যানো গাড়ি না বানাতে দেওয়ার খেসারত হিসাবে ২০২৩ সালে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিন সদস্যের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের কারখানা না হওয়ার জন্য টাটা গোষ্ঠীকে বিপুল অর্থ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় রাজ্যকে। সেই সময় ফের রতন টাটা-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল।
সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য সভায় বলেছিলেন, “কেউ কেউ বাজে কথা বলে বেড়াচ্ছে যে, আমি টাটাকে তাড়িয়ে দিয়েছি, টাটা চাকরি দিচ্ছে, আরে টাটাকে আমি তাড়াইনি”।






