আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে আপাতত রাজ্য উত্তাল। দুর্গাপুজো চলছে ঠিকই কিন্তু এর মধ্যে আন্দোলনের আঁচে প্রভাব পড়ে নি। আন্দোলন চলছে নিজ গতিতে। আমরণ অনশনে জুনিয়র চিকিৎসকরা। অন্যদিকে, নাগরিক সমাজও চালিয়ে যাচ্ছে আন্দোলন। এসবের মধ্যেই মিলল ফের নারী নির্যাতনের খবর। ফের হাসপাতালের মধ্যে তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়াকে শ্লীলতাহানি।
ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই দিন রাতে ওই তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়াকে ডেকে পাঠানো হয় ওপিডি-তে। তিনি গিয়ে দেখেন, ওপিডি ফাঁকা। সেই সময় অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের এক সিনিয়র চিকিৎসক তাঁর শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ। এমনকি, এই ঘটনা কথা কাউকে জানালে ফল ভালো হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়াকে।
সেই ভয়েই এতদিন মুখ খুলতে পারেন নি ওই তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়া। তিনি ভেবেছিলেন, হাসপাতালের মধ্যে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। তবে পরে তিনি বোঝেন, তিনি চুপ করে থাকলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে। সেই কারণে প্রকাশ্যে আসেন তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়া। মুখ খোলেন সিনিয়র চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। থানায় ওই সিনিয়র চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়া।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনার কথা জানাজানি হতে ওই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রতিবাদ জানান চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত চিকিৎসক এরপর থেকেই আর হাসপাতালে আসছেন না। তবে তদন্ত করছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, আর জি করের ঘটনার পর থেকেই কর্মক্ষেত্রে মহিলা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালে নিরাপত্তার দাবীতে আমরণ অনশন করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। গণইস্তফা দিয়েছেন একাধিক মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়ররা। এরই মধ্যে ফের হাসপাতালের মধ্যেই উঠল আরও এক তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার শ্লীলতাহানির অভিযোগ। তাও আবার সিনিয়র চিকিৎসকের বিরুদ্ধেই। ফলে এর জেরে আরও তীব্র প্রতিবাদ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।





