দেখা না হলেও এবার ফোনে কথা! আচমকাই অনুব্রতকে ফোন করলেন মমতা, প্রিয় ‘কেষ্ট’কে কী বোঝালেন ‘দিদি’?

২ বছর পর জেল থেকে ফিরেছেন অনুব্রত মণ্ডল। জেলে যাওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁর ভয়ে বীরভূমে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত বলা যায়। জেলা সভাপতি হিসেবে বীরভূমে তাঁর কথাই শেষ কথা ছিল। জেল থেকে ফিরেও অনুব্রতর সেই মূর্তি বজায় থাকবে কী না, তা নিয়ে বেশ জল্পনা ছিল। এরই মধ্যে এবার কেষ্টকে ফোন করলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  

অনুব্রত মণ্ডলের জেল হওয়ার উর বীরভূমের পরিচালনার জন্য কোর কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কোর কমিটিতে ছিলেন কাজল শেখ। যদিও কাজল শেখের সঙ্গে অনুব্রতর সম্পর্ক চিরকালই খাট্টা-মিঠা। এরই মধ্যে আবার জেল থেকে ফেরার পর কোর কমিটি ছাড়াই বিজয়া সম্মিলনী করেছেন অনুব্রত। কাজল শেখের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা মেলেনি তাঁর। এর জেরেই কী দলনেত্রীর ফোন কেষ্টকে?

অনুব্রত জেলে যাওয়ার পর জেলা সভাপতি পদে কাউকে না বসালেও কোর কমিটি গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অনুব্রত জেল থেকে ফিরে আসতেই দেখা যায়, দলীয় কার্যালয় থেকে কোর কমিটির সদস্যদের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি, কাজল শেখের সঙ্গেও এক মঞ্চে দেখা যায়নি কেষ্টকে। অনুব্রত যেভাবে কোর কমিটি ছাড়াও বিজয়া সম্মিলনী করলেন,তাতে প্রশ্ন তো উঠেছিলই। এবার তাঁকে ফোন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।  

এই প্রসঙ্গে অবশ্য কাজল শেখ বলেছেন, এই বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলনেত্রী, তাই তিনি যা নির্দেশ দেবেন, সেটাই সকলকে মেনে চলতে হবে। তিনি এও জানান, তিনি দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করেছেন। কিন্তু আলাদা আলাদা দায়িত্ব থাকার কারণে দেখা হচ্ছে না এখন। তবে প্রশ্নটা হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে তাঁর প্রিয় কেষ্টকে ঠিক কী বললেন!

জানা গিয়েছে, আগামীদিনে কোন পথে চলতে হবে, কীভাবে দলকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, সেকথাই অনুব্রতকে বুঝিয়ে দেন মমতা। এও জানা গিয়েছে, কোর কমিটির এক সদস্যের ফোনে ফোন করেছিলেন মমতা। সেই ফোনেই অনুব্রতর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁকে একথাও ভালোভাবে বুঝিয়ে দেন, এবার আর জেলায় একা চলা যাবে না।

আরও পড়ুনঃ জুনিয়র চিকিৎসক বনাম জুনিয়র চিকিৎসক! অনিকেত-কিঞ্জলদের বিরুদ্ধে মুখ্যসচিবকে ইমেল, ৮ দফা দাবী এবার জুনিয়র চিকিৎসকদের নতুন সংগঠনের

বলে রাখি, ২০২২ সালের আগস্ট মাসে অনুব্রত মণ্ডল গরু চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হন। তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবসময় অনুব্রতর সমর্থনেই কথা বলেছেন তিনি। এমনকি, সেই সময় তিনি কাজল শেখকেও ধমক দিয়ে বলেছিলেন, অনুব্রতকে ভুলে গেলে চলবে না। এবার অনুব্রতকে আগামীর পথ চলার বিষয়ে বার্তা দিলেন দলনেত্রী।       

আরও অন্যান্য খবর