জয়নগরের নাবালিকার ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে দোষীকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে বারুইপুর পকসো আদালত। এই ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন আর জি করের মৃতা তরুণী চিকিৎসকদের মা-বাবা। যদিও পুলিশ-সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর কথায়, তাঁর মেয়ের ঘটনায় পুলিশ তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করার থেকে তা লোপাট করতে বেশি ব্যস্ত ছিল।
গতকাল, শুক্রবার মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে স্বাস্থ্যভবন পর্যন্ত মিছিল ছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের। আর জি করের নির্যাতিতার পরিবার সেই মিছিলে অংশ নেবেন বলে আগেই জানা গিয়েছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই এদিন বিকেলে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায় তিলোত্তমার মা-বাবাকে। দ্রুত বিচারের দাবীতে এদিন এই মিছিলে হাঁটলেন আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ, দেবাশিস হালদাররাও।
এদিনই আবার জয়নগর কাণ্ডে দোষীকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে আদালত। সেই প্রসঙ্গে আর জি করের নির্যাতিতার বাবা বলেন, “আমাদের সাহস আরও বেড়ে গেল। আমরাও চাই আমাদের মেয়ের ঘটনায় কঠোরতম সাজা হবে এবং আশা রাখছি তা হবেই”।
জয়নগরের ঘটনার ৬২ দিনের মাথায় দোষীকে সাজা ঘোষণা করা হল। কিন্তু তাঁর মেয়ের ঘটনার ১০০ দিনের বেশি হয়ে গেলেও সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। সেই প্রসঙ্গে নির্যাতিতার বাবা বলেন, তাঁর মেয়ের ঘটনায় সরকারের মনোভাব ঢিলেঢালা ছিল। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করার থেকে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতেই বেশি ব্যস্ত ছিল।
তবে আশা ছেড়ে দেন নি অসহায় মা-বাবা। নির্যাতিতার বাবার কথায়, এতকিছুর পর ঘটনার তদন্তভার গিয়েছে সিবিআইয়ের উপর। তাই সিবিআইকে সময় দিতে হবে। আর সিবিআইকে তারা সময় দেবেন বলেই জানান নির্যাতিতার বাবা। আর জি করের ঘটনারও বিচার খুব শীঘ্রই হবে বলে আশাবাদী তিনি। তবে তিনি এও জানান, সরকার ও সিবিআইয়ের উপর চাপ বজায় রাখতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
আরও পড়ুনঃ রেললাইনে ফাটল! অল্পের জন্য রক্ষা পেল কতশত যাত্রীদের প্রাণ, শিয়ালদহ শাখায় বন্ধ ট্রেন চলাচল
অন্যদিকে আবার জয়নগরের প্রসঙ্গ তুলে বেশ আক্ষেপের সুরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আর জি করের ঘটনার পর একমাস সময় দিলে হয়ত নির্যাতিতার বিচারও দ্রুত সম্পন্ন হয়ে যেত। মেয়র ফিরহাদ হাকিমও সেই একই সুরেই বলেন, “এই ঘটনা আবার প্রমাণ করল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা রাখায় কুলতলির খুনি ধর্ষক শাস্তি পেল। এমনভাবে যদি জুনিয়র ডাক্তার এবং অভয়ার মা-বাবা ভরসা রাখতেন, তবে এতদিনে আসল খুনি-ধর্ষক ধরা পড়ত, শাস্তিও পেত”।






