আরজি কর কাণ্ডে নতুন মোড়! সঞ্জয়ের ফাঁসি চেয়ে হাইকোর্টে রাজ্যের দাবির শুনানি শুরু

গতকাল কলকাতাসহ (Kolkata) গোটা দেশের মানুষ তাকিয়ে ছিল সঞ্জয় রায়ের মামলার রায়কে নিয়ে। একদিকে শিয়ালদা আদালতে রায় ঘোষিত হলেও, তা যথেষ্ট আলোচনা সৃষ্টি করেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই একটাই প্রশ্নে উত্তেজিত ছিল— “সঞ্জয় রায়ের শাস্তি কী হবে?” মানুষের মধ্যে কৌতূহল এবং উত্তেজনা ছিল প্রবল, আর সবার মুখে একই দাবি— সঞ্জয়ের শাস্তি হওয়া উচিত সবচেয়ে কঠোর। এ পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বিজেপি নেতারা সকলেই সঞ্জয়ের ফাঁসির দাবি করেছেন।

কলকাতার শিয়ালদা আদালতে গতকাল আরজি কর মামলার রায় ঘোষণা হয়। আরজি কর কাণ্ডের দায়ে সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে আদালত তার সাজা ঘোষণা করে। বিচারক অনির্বাণ দাস সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করা হয়নি। এর পরেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে সঞ্জয়ের ফাঁসি চেয়ে আবেদন জানানো হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্টে মামলার শুনানি হতে চলেছে।

আজ কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মামলার আবেদন করা হয়েছে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এই আবেদন দায়ের করেছেন, যাতে সঞ্জয় রায়ের সাজা নিয়ে উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত নিক। এই আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা এখন হাই কোর্টের ওপর নির্ভর করছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজ্য সরকারের আবেদন গ্রহণ হলে সঞ্জয়ের শাস্তির ব্যাপারে আগামীদিনে নতুন মোড় আসবে।

এদিকে, গতকাল শিয়ালদা আদালতে সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে সাজা ঘোষণা করা হয়। তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে, এছাড়া নির্যাতিতার পরিবারকে ১৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। এই রায়ের পর, সঞ্জয়ের শাস্তি নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের নতুন বিতর্কিত পদক্ষেপ! লিঙ্গ বিভাজনে নতুন নিয়ম! প্রতিবাদে সামিল আমেরিকা!

এই আবহে, রাজ্য সরকার উচ্চ আদালতে সঞ্জয়ের ফাঁসির দাবি তুলছে, যদিও শিয়ালদা আদালত তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং জরিমানা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্য সরকারের যুক্তি, যে ধরনের নৃশংসতা এবং মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে, তার জন্য সঞ্জয়কে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া উচিত, যাতে সমাজে অপরাধীদের জন্য কোনো ধরনের সহানুভূতি না থাকে। অন্যদিকে, সঞ্জয়ের শাস্তি নিয়ে বিচারকের পর্যবেক্ষণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন, যেখানে তিনি আদালতকে জনগণের আবেগের চেয়ে আইন ও ন্যায়বিচারের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও অন্যান্য খবর