বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নারী এবং পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে বৈষম্য দেখা যায়, যার মধ্যে কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া, থার্ড জেন্ডারের(Third gender)অধিকার বিষয়েও প্রশ্ন উঠছে, যেখানে সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং ন্যায্য অধিকার এখনও খুব কম। সম্প্রতি, বিভিন্ন দেশে থার্ড জেন্ডারের ন্যায্যতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যেখানে তাদের অধিকার এবং সম্মান প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে বেশ আলোচিত হয়েছে, বিশেষত তার শাসনকালে নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর জন্য। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন। এমনকি, অনেক ক্ষেত্রে তার সরকার এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের অধিকার সীমিত করার পক্ষে ছিলেন। এখন, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প সরকার নতুন করে লিঙ্গ সংক্রান্ত নিয়মকানুনে পরিবর্তন আনতে চলেছে।
সম্প্রতি, ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে, আমেরিকার সরকারি নথিপত্রে শুধুমাত্র পুরুষ এবং মহিলা এই দুটি লিঙ্গের উল্লেখ থাকবে। এর মানে, কোনও রূপান্তরকামী বা তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি সরকারি নথি, যেমন পাসপোর্ট বা ভিসায় নিজেদের লিঙ্গের বিষয়ে পূর্বের ঐতিহ্য অনুসরণ করতে পারবেন না। শপথ নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, “এখন থেকে শুধুমাত্র পুরুষ এবং মহিলা এই দুটি লিঙ্গেরই সরকারি নথিপত্রে উল্লেখ থাকবে।” এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে, শারীরিক গঠন অনুসারে মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ করা হবে এবং অন্য কোনও লিঙ্গের বিকল্প থাকবে না।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন তৃতীয় লিঙ্গের জন্য পৃথক লিঙ্গের ব্যবস্থা চালু করেছিল, যাতে রূপান্তরকামী মানুষও সরকারি নথিতে নিজেদের পরিচয় সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেন। বাইডেনের শপথ নেওয়ার পর, এই নীতি ছিল একটি বৃহৎ পরিবর্তন, যা রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের জন্য নতুন আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আসার পর, এই নীতি পরিবর্তন করতে তিনি উদ্যোগী হয়েছেন। ট্রাম্পের সরকারের এই পদক্ষেপে আরও বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশেষ করে LGBTQ+ অধিকার সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ পশ্চিমী ঝঞ্ঝায় শীতের ছন্দপতন! দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা, উত্তরবঙ্গে তুষারপাতের আভাস
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ উঠেছে। আমেরিকার বৃহত্তম মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইট্স ক্যাম্পেন’-এর সভাপতি কেলি রবিনসন বলেছেন, “আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকব। আমরা কোনওভাবেই পিছু হটব না।” বিভিন্ন তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার সংগঠন, যেমন ‘এলজিবিটিকিউ+ নেটওয়ার্ক’, রুখে দাঁড়িয়েছে এবং এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে এবং বিশ্বব্যাপী লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অন্তর্গত।






