কলকাতা (Kolkata), ভারতের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শহর, যেখানে সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং আধুনিকতা মিলে এক অনন্য আলোয় সেজে উঠেছে। পুরানো কলকাতার বাড়ি, রাস্তা, স্কুল, কলেজ এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা একদিকে যেমন শহরের মাধুর্য বাড়ায়, অন্যদিকে তার সংস্কৃতি ও সত্ত্বা এখনও ধরে রেখেছে। বহু বছর ধরে এখানে বহু পরিবার একত্রে বাস করে আসছে, এবং শহরের মধ্যে বাসিন্দাদের যোগাযোগ ও জীবনধারা এখনো অতীতের সাথে সংযুক্ত। তবে, শহরের অবকাঠামো উন্নতির দিকটি মাঝে মাঝে মন্থর হতে দেখা যায়, বিশেষ করে বর্ধমান জনসংখ্যা ও দ্রুত নগরায়ণের কারণে।
কিন্তু এর পাশাপাশি, কলকাতায় এক বড় সমস্যা এখন উঠছে—ভবন ধ্বসের ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যে শহরে একসময় প্রবাহিত হয়েছিল তার স্বতন্ত্র জীবনধারা, সেখানে আজ বহু বহুতল একের পর এক হেলে পড়ছে, ভেঙে পড়ছে। এটা শুধু একটি নির্মাণের ভুল নয়, বরং শহরের অবকাঠামো সংক্রান্ত এক বড় সংকটের চিহ্ন। বহু বাড়ির স্থিতি এখন ঝুঁকির মধ্যে, এবং এর ফলে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। ভবনগুলো নির্মাণের সময় মান নিয়ন্ত্রণের অভাব, অবহেলা এবং জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমন ঘটনা ঘটছে। শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এবং জনসাধারণের মাঝে এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।
বাগুইআটিতে, কলকাতার পূর্বাঞ্চলের একটি পরিচিত এলাকায়, সম্প্রতি দুটি বহুতল বাড়ি একে অপরের গায়ে হেলে পড়েছে। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিধাননগর পুরনিগমের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের জগৎপুর নেতাজিপল্লী এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই দুটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল কয়েক ছটাক জমির ওপরে, যেখানে পুকুর ভরিয়ে জায়গা তৈরি করা হয়েছিল। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বাড়িগুলি বিপজ্জনকভাবে একে অপরের গায়ে হেলে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর ঝুঙ্কু মণ্ডল। তবে, ঘটনায় প্রোমোটার মিঠুন করের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কাউন্সিলর ঝুঙ্কু মণ্ডল জানিয়েছেন, এই বহুতলগুলো তাঁর সময়কালে নির্মাণ হয়নি। তিনি বলেন, পূর্বতন কাউন্সিলর আশা নন্দীর আমলে এই বহুতলগুলির নির্মাণ শুরু হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বিধাননগর পুরনিগমে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে তৎপরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। বাসিন্দাদের জন্য এটা একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শোষণ! প্রকাশ্যে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ‘অন্ধকার ইতিহাস’!
কলকাতার শহরাঞ্চলে একের পর এক এই ধরনের বিপজ্জনক ভবন ধ্বসের ঘটনাগুলি শহরের অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও নগর পরিকল্পনায় বড় রকমের সমস্যার প্রতিফলন। অবকাঠামো সংস্কারের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে, ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ হতে পারে। তাই, নির্মাণের সময় মান নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শহরের বর্ধিত জনসংখ্যার উপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। সরকারি সংস্থাগুলি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি নিয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং কলকাতা আবারও একটি নিরাপদ, সুন্দর শহরে পরিণত হতে পারে।






