ভারত (India) দক্ষিণ এশিয়ার এক অপ্রতিরোধ্য সভ্যতা, সারা পৃথিবীজুড়ে তার সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ইতিহাসের জন্য পরিচিত। এক সময়ে বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে ধনী দেশ হিসেবে ভারত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ১৭৫০ সালে, ভারতের শিল্প উৎপাদন ছিল বিশ্বের মোট উৎপাদনের ২৫ শতাংশ। তবে, ঔপনিবেশিক শাসনের সময় এই দেশকে শুধু শোষণই করা হয়নি, বরং তার সম্পদের অপচয়ও ঘটেছে। এক সময়ের সাংস্কৃতিক গৌরব আজও ভারতে গভীরভাবে অনুভূত হয়, তবে এই সমৃদ্ধির ইতিহাসে রয়েছে দুঃখজনক এক অধ্যায়—ঔপনিবেশিক শোষণ।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পূর্বে, ভারতীয় উপমহাদেশ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ব্রিটিশরা প্রায় ২০০ বছর ধরে ভারতকে শোষণ করেছে, দেশটির সম্পদ শোষণ করে তাদের স্বার্থে কাজে লাগিয়ে। অক্সফামের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঔপনিবেশিক শাসনের সময় ভারত থেকে প্রায় ৬৪.৮২ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ শোষিত হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৩৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার, ব্রিটেনের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর হাতে চলে গেছে। এটা শুধু একটি আর্থিক শোষণের চিত্রই নয়, বরং পৃথিবীর ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়ের প্রতীক।
অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল তার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, ব্রিটেনের ধনী শ্রেণির সদস্যরা ভারতীয় সম্পদের বৃহৎ অংশ নিয়ে গেছেন। বিশেষভাবে, ঔপনিবেশিক শাসনকালীন সময়ে ব্রিটিশ শাসকরা ভারতের শিল্প, কৃষি এবং অর্থনীতি থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ শোষণ করেছিল। ১৭৫০ সালে ভারত ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি, কিন্তু ১৯০০ সালের মধ্যে তা কমে যায়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভারতে শুধুমাত্র সম্পদ চুরি করেনি, বরং ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পদও ধ্বংস করেছে, বিশেষ করে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে। ঔপনিবেশিক নীতির কারণে ভারতীয় উৎপাদন শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়, এবং ভারতীয় জনগণ শুধু শোষণের শিকারই হয়নি, তাদের শ্রম ও সময়ও মূল্যহীন হয়ে পড়ে।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শাসন শেষ হওয়ার পরেও, সেই সম্পদ মূলত ব্রিটেনের ধনী শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। ১৯৪০ সালের পর, ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকাররা ব্রিটিশ ধনীদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন। অক্সফাম দাবি করেছে, এটি প্রমাণিত যে ঔপনিবেশিক শাসনের পরেও, সম্পদ এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত অবস্থান ধনী শ্রেণির হাতে ছিল। সাম্রাজ্যবাদের ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার এখনো বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ নেতাজি চক্রান্তের শিকার! ৬৪টি ফাইল প্রকাশ করেছে রাজ্য! কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!
অক্সফামের এই প্রতিবেদনটি সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের আগে প্রকাশিত হয়, যা ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অসমতার বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এনেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আলোচকরা এই রিপোর্টকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু করেছেন, যা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ন্যায্যতা এবং সামাজিক সুবিচারের প্রশ্ন তুলছে।





