রাজনৈতিক মহলে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের টানাপোড়েন যেন লেগেই থাকে। কখনও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা বন্ধ করা নিয়ে, কখনও আবার রাজ্যের দাবি নিয়ে— এই সংঘাত বারবার সামনে আসে। বিশেষ করে আর্থিক বিষয়গুলি নিয়ে দুই সরকারের মতবিরোধ বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে। একদিকে কেন্দ্র দাবি করে রাজ্যকে নিয়ম মেনে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্য অভিযোগ করে বঞ্চনার। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই রাজ্যের বাজেট ঘোষণা করা হল, যেখানে কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হয়েছে, যেখানে রাজ্যগুলির জন্য বিশেষ কোনও বরাদ্দের ঘোষণা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে একাধিক রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার পেশ হল রাজ্য বাজেট। আর তারপরই ফের একবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হলেন মমতা। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি এবং রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরলেন রাজ্যের একাধিক প্রকল্পের পরিসংখ্যান। তার দাবি, কেন্দ্রের তরফে টাকা বন্ধ হয়ে গেলেও, রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ৯৪টি স্কিম আছে আমাদের”। তার দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার টাকা বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু রাজ্য নিজের উদ্যোগে ২৮ লক্ষ বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ১০০ দিনের কাজের টাকা না পাওয়ার বিষয়টিও তুলে আনেন তিনি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে স্বাস্থ্যসাথী, কৃষি পেনশন থেকে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড— একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ শুক্রবার থেকে ঠান্ডার আমেজ! দার্জিলিঙে তুষারপাতের সম্ভাবনা! কিন্তু কতদিন থাকবে শীত?
সংখ্যার ভিত্তিতে মমতা জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে, ১২ কোটি মহিলা উপকৃত হয়েছেন। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সুবিধা পেয়েছেন প্রায় ৯ কোটি মানুষ। ৮০ হাজার পড়ুয়া পেয়েছে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের ঋণ। তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে ৫২ লক্ষের বেশি স্মার্টফোন দেওয়া হবে, যার ফলে পড়ুয়ারা উপকৃত হবে। কৃষি পেনশন পাচ্ছেন ৬৮,০০০ কৃষক, এবং এমএসএমই সেক্টরে ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ কর্মসংস্থান পেয়েছেন। বাণিজ্য সম্মেলন নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেও, মমতা জানান, এখন পর্যন্ত ১৯ লক্ষ কোটি টাকার লগ্নি এসেছে, যার মধ্যে ১৩ লক্ষ কোটির প্রকল্প শেষ হয়ে গিয়েছে।
সবশেষে বড় চমক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেউচা পাচামিতে খনন শুরু হলে ১ লক্ষ যুবক কাজ পাবেন। এছাড়াও, রাজ্যে ৬টি ফ্রেট করিডর তৈরি হবে, যা শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। তার বক্তব্য, “আমরা কারও স্কিলকে ছোট করি না, কিন্তু আমাদের মানুষ বাইরে গেলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাংলায় শিল্প গড়ার জন্য আমরা যথেষ্ট উদ্যোগী।” বাজেট ঘোষণার পর কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।






