কাশ্মীর উপত্যকার সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন পহেলগামে। বরফে ঢাকা পাহাড়, সুউচ্চ দেবদারু গাছ আর নির্জন নদী—সব মিলিয়ে যেন এক স্বর্গীয় পরিবেশ। কিন্তু এবার সেই শান্তি আর স্বপ্নভঙ্গের গল্প শোনাচ্ছে পহেলগাম। রাস্তায় পড়ে রয়েছে রক্তাক্ত ব্যাগ, ছিন্নভিন্ন জামাকাপড়, আর আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদ। একদিকে ভারত জুড়ে চলছে লোকসভা নির্বাচন, অন্যদিকে এমন সন্ত্রাসের ঘটনা রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে সাধারণ মানুষকে।
পহেলগামের এই হামলার পর শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক মহল থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। জঙ্গিদের নিশানায় নিরীহ পর্যটকেরা কেন? এই প্রশ্ন উঠছে বারবার। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ইতিহাসে এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেখানে শান্তি আলোচনার ঠিক আগে বা আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সফরের সময় ঘটে গিয়েছে বড় সন্ত্রাস। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। জঙ্গি হামলার নেপথ্যে কারা, কেন এই সময়েই এই হামলা—এই নিয়েই তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা।
এই পটভূমিতে ফের একবার সামনে উঠে এল পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বক্তব্য, যেটি এখন নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছে। গত ১৬ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রবাসী পাকিস্তানিদের এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “কাশ্মীর পাকিস্তানের গলার শিরা। আমরা কাশ্মীর ছাড়ব না। কাশ্মীর পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।” এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে এই বক্তব্যের কিছুদিন পরেই যখন পহেলগামে পর্যটকদের উপর হামলা হয়েছে, তখন সন্দেহের তীর ঘুরেছে পাকিস্তানের দিকেই।
এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন মার্কিন প্রতিরক্ষা আধিকারিক মাইকেল রুবিন। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি আসিম মুনিরকে তুলনা করলেন আল-কায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে। তাঁর কথায়, “লাদেন আর মুনিরের মধ্যে পার্থক্য একটাই—লাদেন থাকতেন গুহায়, মুনির থাকেন প্রাসাদে। কিন্তু মানসিকতা এক।” তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানই এই হামলার পেছনে মূল ষড়যন্ত্রী এবং আমেরিকার উচিত আসিম মুনিরকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করা। এমনকি তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “শুয়োরের ঠোঁটে লিপস্টিক দিলে যেমন কিছু বদলায় না, তেমনি পাকিস্তানের চরিত্রও অপরিবর্তনীয়।”
আরও পড়ুনঃ Pahalgam Attack : হিন্দু পর্যটকদের মৃত্যু, আর পাক দূতাবাসে কেক কাটার উল্লাস! কোন আনন্দে শোকের দিনে উদযাপন হচ্ছে এই উৎসব?
মাইকেল রুবিন আরও বলেন, “২০০০ সালে যখন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ভারতে সফরে এসেছিলেন, তখনও একইভাবে হামলা হয়েছিল। এবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারতে, আর তার মধ্যেই ঘটে গেল এই নৃশংস হামলা। এটা শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা।” তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান বরাবরই সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই ঘটনা তারই এক প্রতিফলন। ভারত ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। এবার দেখার, বিশ্ব পাকিস্তানকে ঠিক কী বার্তা দেয়।






