বাঙালির জীবনে পাহাড় মানেই শান্তি, নির্জনতা, প্রকৃতির কোলে ছুটি কাটানোর আনন্দ। কিন্তু সেই পাহাড়ই যখন রক্তাক্ত হয়ে ওঠে, আর সেই রক্ত ঝরে বাংলার কারও পরিবারে, তখন তা নিছক একটি খবর থাকে না—তা হয়ে ওঠে এক একটি পরিবারের বিভীষিকা। সম্প্রতি কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সন্ত্রাসবাদী হামলা এমনই এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সোচ্চার হয়েছেন এই ঘটনার প্রতিবাদে।
সাধারণ নাগরিকের মনে প্রশ্ন, কবে নিরাপদ হবে এই দেশ? ধর্মীয় পরিচয় দেখে মানুষকে নিশানা করার ঘটনা কি আরও বাড়বে? কাশ্মীর যে এখনও অশান্ত, তা এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে। এরই মধ্যে বাংলার মানুষ আতঙ্কিত—কারণ এই ঘটনায় যিনি নিহত হয়েছেন, তিনি আমাদের রাজ্যেরই সন্তান। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে রাজনীতির মঞ্চেও প্রতিবাদ এবং ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিহত হন পূর্ব মেদিনীপুরের বৈষ্ণবঘাটার বাসিন্দা বিতান অধিকারী। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য বিধানসভার গেটে পৌঁছে পাকিস্তানের পতাকা পোড়ান। তিনি বলেন, “২৬-এর বদলে চাই ২৬০টা মুণ্ড।” তাঁর এই কড়া বক্তব্য রীতিমতো চাঞ্চল্য ফেলে দেয় রাজনৈতিক মহলে। তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি।
শুভেন্দু বলেন, “মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়। গাজার মতো পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে হবে।” তিনি জানান, কেন্দ্রের উপর বিশ্বাস রাখা উচিত, কারণ দেশের স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবেন না প্রধানমন্ত্রী। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অ্যাকশনের দাবি ওঠে এই মঞ্চ থেকেই। তিনি বলেন, “যারা আমাদের ভাইয়ের প্রাণ নিয়েছে, তাদের রেহাই দেওয়া যাবে না।”
আরও পড়ুনঃ Pahalgam Attack: ‘লাদেন গুহায় থাকত, মুনির থাকে প্রাসাদে!’ পহেলগাম হামলার পর পাক সেনাপ্রধানকে সরাসরি সন্ত্রাসবাদীর তকমা প্রাক্তন মার্কিন অফিসারের!
এই প্রতিবাদের সময়ে শুভেন্দু একটি বিতর্কিত স্লোগান দেন, যা ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তৃণমূলের কুণাল ঘোষ ভিডিও শেয়ার করে কটাক্ষ করে লেখেন, “এই সেরেছে! গুলিয়ে লাট।” এই স্লোগান ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে কাশ্মীরের হামলার জেরে যেমন দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতেও নতুন উত্তেজনার পারদ চড়েছে। এখন দেখার, কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নেয় এবং রাজ্য রাজনীতির এই তরজা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।





