আমরা রোজ যেসব ওষুধ চোখ বুজে খাই, সেগুলো আদৌ নিরাপদ তো? পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের ডায়াবেটিস হোক বা সন্তানের সর্দি-কাশি, প্রথমেই ভরসা হয় ওষুধের উপর। কিন্তু যদি জানা যায়, সেই পরিচিত ওষুধই আপনার শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, তখন কি করবেন? শুধু অসুখ সারানো নয়, ওষুধের গুণমান নিয়েও সতর্ক থাকা এখন সময়ের দাবি।
চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনও তখন অসুবিধার কারণ হতে পারে, যদি ওষুধের ব্যাচই নষ্ট হয়। আপনি ভাবতেই পারেন, ব্র্যান্ডেড ওষুধ নিশ্চয়ই সুরক্ষিত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনা প্রমাণ করছে, বড় সংস্থার ওষুধও পড়ছে সন্দেহের তালিকায়। এই অবস্থায় রাজ্যের পক্ষ থেকে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবেই।
সম্প্রতি, কেন্দ্রীয় ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)-এর প্রকাশিত এপ্রিলে রিপোর্টে দেখা গেছে, ১৯৬টি ওষুধ গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। এই রিপোর্টকে ভিত্তি করেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তর ১৩৭টি ওষুধের বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই সব ওষুধ শুধু বিক্রি বন্ধ নয়, বাজার থেকেও প্রত্যাহার করতে হবে। শুধু সাধারণ জ্বর বা কাশি নয়, তালিকায় রয়েছে অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহারযোগ্য ইনজেকশন, আই ড্রপ, ক্যানসারের ওষুধ, যক্ষ্মার ইনজেকশন, ডায়াবেটিক রোগীদের ইনসুলিন প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ।
আরও পড়ুনঃ Ssc: আন্দোলনের মাঝপথেই আশাভঙ্গ! বিকাশ রঞ্জনের কথায় স্তব্ধ চাকরিহারা শিক্ষকরা!
তালিকায় এমন ওষুধ আছে যেগুলি কেমোথেরাপির পর ব্যবহৃত হয়, ফুসফুসের সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, এমনকি খাদ্যনালী ও আলসার নিরাময়ের কাজেও ব্যবহৃত হয়। ফলে এই সিদ্ধান্ত শুধু চিকিৎসকদের জন্য নয়, রোগীদের কাছেও বড় সতর্কবার্তা। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওষুধের ব্যাচ নম্বর ও নাম উল্লেখ করে পাইকারি ও খুচরো বিক্রেতাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ একান্ত প্রয়োজনীয় বলে জানানো হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা প্রমাণ করে, শুধু প্রেসক্রিপশন নয়, ওষুধের ব্যাচ নম্বর, প্রস্তুতকারক সংস্থা ও গুণমান সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া জরুরি। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে ওষুধ নিয়ে সচেতনতা বাড়াবে বলেই আশা করা যায়। মনে রাখবেন, সচেতন থাকলেই সুস্থ থাকা সম্ভব।





