রথের দিন মানেই মঙ্গলকামনায় রথ টানা, ভক্তদের ঢল, আর আকাশ ভরা প্রার্থনা। তবে এ বছর সেই প্রার্থনায় বাদ সেজে যেতে পারে বর্ষা। ইতিমধ্যেই জুন মাসের শেষ সপ্তাহে এসে রাজ্যজুড়ে বর্ষা তার দাপট দেখাতে শুরু করেছে। কলকাতা থেকে শুরু করে দুই ২৪ পরগনা, হুগলি, বর্ধমান— একাধিক জেলায় আকাশ ঢেকেছে মেঘে। রথযাত্রার ঠিক আগেই বৃষ্টির এমন পূর্বাভাস ঘিরে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসনের।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে একটি নিম্নচাপ (low pressure) অঞ্চল তৈরি হয়েছে। যার ফলে রাজ্যে মৌসুমী অক্ষরেখা (monsoon trough) হয়ে উঠেছে সক্রিয়। এই নিম্নচাপ আগামী দিনে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ওড়িশা, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়ে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় আগামী দু’দিনে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
শুক্রবার অর্থাৎ রথের দিনেই দক্ষিণবঙ্গের পাঁচটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনা জেলায় হতে পারে ভারী বৃষ্টি। বিক্ষিপ্তভাবে রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুরেও রয়েছে একই পূর্বাভাস।
উপকূলবর্তী এলাকায় নিম্নচাপের জেরে সমুদ্র হতে পারে উত্তাল। তাই ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে মৎস্যজীবীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণাবর্তের কারণে ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই সময় সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
আরও পড়ুনঃ Astrology: ভগবান জগন্নাথের বিশেষ কৃপা শুধু এই ৪ রাশির উপর! মিলবে অগাধ সমৃদ্ধি ও শান্তি!
চলতি জুন মাসে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি নেই বরং কিছুটা উদ্বৃত্ত হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের হিসেব অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে ১০ থেকে ১১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যদিও উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় এখনও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। কলকাতাতেও বৃষ্টির অভাব রয়েছে খানিকটা। তবে সামগ্রিকভাবে জুন মাসে রাজ্যে বৃষ্টিপাত প্রায় স্বাভাবিকই ছিল।






