বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আঘাত যেন থামছেই না। প্রতিমা ভাঙচুর থেকে শুরু করে মন্দির ধ্বংস, একের পর এক ঘটনার সাক্ষী হয়ে উঠছে সে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজ। আন্তর্জাতিক মহলে এই ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত কেউ সরব না হলেও প্রতিবাদে মুখর হয়েছে ভারত। ঢাকার দুর্গা মন্দির ধ্বংস নিয়ে এবার ভারত সরকার সরাসরি দায় চাপাল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপর। এই ঘটনাকে শুধুই বিচ্ছিন্ন বলেই নয়, বরং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা রক্ষায় ইউনুস সরকারের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি বলেই দেখছে নয়াদিল্লি।
ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কড়া ভাষায় বলেন, ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার দুর্গা মন্দির ভাঙা হয়েছে সরকারের অনুমতিতেই। হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে, এই সরকার সেটিকে ‘অবৈধ জমি দখল’ বলে অপপ্রচার চালিয়েছে এবং সেই মিথ্যে অভিযোগের ভিত্তিতেই মন্দির ধ্বংসের ছাড়পত্র দিয়েছে। তিনি জানান, প্রতিমা সরানোর আগেই চলে আসে বুলডোজার। ফলে প্রতিমারও ক্ষতি হয়। এমন ঘটনা পূর্বে বহুবার ঘটলেও বর্তমান সরকারের আমলে তা যেন আরও নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুরু থেকেই সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে উদাসীন, এমনটাই দাবি করেছে ভারত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈতৃক ভিটে ভাঙচুরের ঘটনায় আগেই তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। এবার তার পরেই দুর্গা মন্দির ধ্বংস, যা বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ভারত স্পষ্ট বলেছে, একের পর এক আঘাত প্রমাণ করে বাংলাদেশে হিন্দুরা এখন সবচেয়ে বেশি সুরক্ষাহীন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলি এক গভীর সংকেত দিচ্ছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অনেকটা খারাপের দিকেই গিয়েছে। মহম্মদ ইউনুসের সরকার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে স্থিতিশীলতা আনতে না পারায়, এই ধরনের ঘটনাগুলি সেই বৈরিতা আরও বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকেরা। পাশাপাশি, যে রাজাকাররা এক সময় বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছিল, তাদের মুক্তি এবং হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা – এই দুই বিপরীতমুখী পদক্ষেপ ঘিরেও প্রশ্ন উঠছে সরকারের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে।
আরও পড়ুনঃ Weather update : রথযাত্রার দিনই ধেয়ে আসছে নিম্নচাপ! পাঁচ জেলা জুড়ে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা, বিপদে মৎস্যজীবীরাও!
রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা আশা করি বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেবে, মন্দির ধ্বংসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটবে।” কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউনুস সরকারের তরফে কোনও দায় স্বীকার বা সংশোধনের বার্তা মেলেনি। বরং একের পর এক হিন্দু নির্যাতনের ঘটনায় সরকারের নীরবতা এবং দুর্বল প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা এখন আরও বেশি অনিরাপদ। ভারতের এই সরব ভূমিকা বাংলাদেশ সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করলেও আদতে সেই দেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কিনা, তা সময়ই বলবে।





