Education controvarsy : নেশার আসর শিক্ষা প্রাঙ্গনে! সিরিঞ্জ, গাঁজার কল্কে ছড়িয়ে বারান্দায়, আতঙ্কে পড়ুয়া ও অভিভাবকরা!

শিক্ষার মন্দির, যেখানে গড়ে ওঠে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, যেখানে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বই, খাতা আর কলম—সেই পবিত্র স্থানেই কি না নেশার আসর! চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন, আর সেই অভিজ্ঞতার সাক্ষী এবার আলিপুরদুয়ারের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুক্রবার সকালটা অন্য সব দিনের থেকে ছিল একেবারেই আলাদা, কারণ এই দিন স্কুলে পা রেখেই হতবাক হলেন শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে পড়ুয়ারা।

স্কুল খুলতেই দেখা যায়, স্কুলের প্রধান দরজায় তালার সঙ্গে ঝুলছে কমপক্ষে দু’টি ব্যবহৃত কন্ডোম। শুধু তাই নয়, স্কুলের বারান্দা জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে গাঁজার কল্কে ও ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ। ঘটনা দেখে চমকে যান সকলে। লজ্জায় মুখ ঢাকেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ঘটনার ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে।

সূত্রের খবর, যশোডাঙা জুনিয়র বেসিক স্কুলে বর্তমানে প্রায় ১৫৮ জন পড়ুয়া রয়েছে। এখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার না হলেও স্থানীয় থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতের অন্ধকারে চোরাপথে সমাজবিরোধীরা এই কাজ করেছে বলেই তাঁদের সন্দেহ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু দিন ধরেই রাত নামলেই স্কুলের বারান্দায় নেশার আসর বসায় একদল যুবক। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকদের তরফে বহু বার প্রতিবাদ জানানো হলেও কোনও ফল হয়নি। তাদের দাবি, বারবার প্রতিবাদের জেরে সমাজবিরোধীরা পরিকল্পিত ভাবেই স্কুল চত্বরে এই অশালীন ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।

অভিভাবক চন্দন বণিক বলেন, ‘‘শিক্ষার জায়গায় এমন অশ্লীলতা মানা যায় না। এ এক সামাজিক অবক্ষয়ের ছবি। যারা এমন কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।’’ স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুমন্ত সিংহ বলেন, ‘‘এমন ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত। সমস্ত বিষয় আমরা পুলিশের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন শিক্ষা আধিকারিকদের জানিয়ে দিয়েছি।’’

আরও পড়ুনঃ West Bengal : ‘গালিগালাজ শুনে বাকরুদ্ধ!’ স্কুলে তৃণমূল বিধায়কের আচরণ ঘিরে বিতর্ক, রচনার তোপের পরেই পদ ছাড়লেন নেতা!

জেলা বিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান পরিতোষ বর্মন বলেন, ‘‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। দ্রুত অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছি। প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নেওয়া হবে।’’ প্রশাসনের তরফে স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াল? ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে এমন ছবি রেখে আমরা কোথায় চলেছি?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles