বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্য। বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এবার সরকার গঠনের পালা, আর সেই প্রেক্ষাপটে আজ, বুধবারই চূড়ান্ত হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার রূপরেখা। গেরুয়া শিবিরে জোর চর্চা, মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য রেখে মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনাও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।
২০২১ সালের পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার জন্য দীর্ঘ সময় লড়াই চালাতে হয়েছে বিজেপিকে। সেই সময় ভোট-পরবর্তী অশান্ত বাংলায় এসে দলের নেতাদের মানসিকভাবে দৃঢ় করেছিলেন অমিত শাহ। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তিনি থামবেন না। অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই জয়ের পরবর্তী ধাপে সরকার গঠনের পুরো প্রক্রিয়াতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
এই প্রেক্ষাপটেই আজ কলকাতায় পৌঁছচ্ছেন অমিত শাহ, যিনি বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। আজকের বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন চূড়ান্ত হতে পারে বলে খবর। এরপর রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবে বিজেপি। ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়েছে, আগামী শনিবার ২৫ বৈশাখ, রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নেবে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার, যেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আঞ্চলিক ভারসাম্যের ওপর। ‘উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত’ এই ইস্যুকে সামনে রেখেই এতদিন রাজনীতি করেছে বিজেপি, তাই এবার সরকার গঠনের সময় উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায় দল। পাশাপাশি, তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের হারানো প্রার্থীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে। এছাড়া দমদম উত্তরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে হারানো সৌরভ শিকদার, টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসকে হারানো পাপিয়া অধিকারী, দিনহাটায় উদয়ন গুহকে পরাজিত করা অজয় রায় এদের নামও সম্ভাব্য মন্ত্রী তালিকায় উঠে আসছে। একইভাবে বিধাননগর, আসানসোল, দমদমের জয়ী প্রার্থীরাও রয়েছেন আলোচনায়।
আরও পড়ুনঃ ‘এই জয়টা আমার ব্যক্তিগত’ একদা তৃণমূলের হয়ে ভোট চেয়ে, এখন প্রকাশ্যে বিজেপি প্রার্থী তথা অভয়ার মা রত্না দেবনাথের জয়কে ব্যক্তিগত বলে সমর্থন করে নতুন বিতর্কে মিমি চক্রবর্তী?
তবে শুধু বিরোধীদের হারানো নেতারাই নন, দলের নিজস্ব তারকা প্রার্থীদেরও পুরস্কৃত করতে চাইছে বিজেপি। এই তালিকায় রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, শংকর ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অগ্নিমিত্রা পলের মতো নেতানেত্রীরা। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে নবান্নের রং বদলে গেরুয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নাম বদলে ‘উন্নয়ন ভবন’ রাখার ভাবনাও সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে, বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে, যার দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।





