রাজপথে প্রতিবাদের ঢেউ, তার মাঝেই শিরোনামে উঠে এল এক পরিবারের বেদনার গল্প। পুলিশের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ঘটনার সূত্রপাত নবান্ন অভিযানে, তবে এই বিতর্কের শেকড় ছড়িয়ে আছে বহু আগে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ অপরাধে। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করে আসা এই পরিবার এবার পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন—যে অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করেছে।
আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের বাবা দাবি করেছেন, গত ৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের সময় তাঁর স্ত্রী পুলিশের হামলার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দুপুরে কিড স্ট্রিট ও জওহরলাল নেহরু রোডের সংযোগস্থলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁর স্ত্রীর ডান হাত ধরে টানেন, ফলে তাঁর শাঁখা ভেঙে যায়। শুধু তাই নয়, লাঠির আঘাতে তাঁর স্ত্রীর মাথা ও পিঠে আঘাত লাগে। নির্যাতিতার বাবার মতে, এই আক্রমণ পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এর ফলে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত।
মঙ্গলবার প্রথমে শেক্সপিয়র সরণি থানায় ইমেল মারফত অভিযোগ পাঠান তিনি। তবে সেই অভিযোগ ওই থানার এক্তিয়ারের বাইরে বলে জানানো হয়। এরপর নিউ মার্কেট থানায় ‘জ়িরো এফআইআর’ দায়ের করা হয়—যা একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ঘটনার স্থান সংশ্লিষ্ট না হলেও যে কোনো থানায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার পর সব সংশ্লিষ্ট থানাকে ট্যাগ করে লালবাজারে ইমেল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা জানিয়েছেন, নির্যাতিতার মায়ের ওপর হামলার অভিযোগের তদন্ত হবে। অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা, তা খতিয়ে দেখা হবে, এমনকি অভিযোগ না এলেও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করা হবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের ভূমিকায় তীব্র সমালোচনা করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুনঃ Ssc Scam: অযোগ্যদের আলাদা করা হবে কীভাবে? প্রাথমিকের চাকরি মামলায় বিচারপতিদের কড়া পর্যবেক্ষণ!
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনা ঘটেছে আরজি কর কাণ্ডের এক বছরের মাথায়, যখন নিহত চিকিৎসকের মা-বাবা মেয়ের ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে পথে নেমেছিলেন। বিজেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নবান্ন অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, পুলিশের ধাক্কাধাক্কিতে নিহত চিকিৎসকের মা-ও আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। যদিও তিনি পরে ছাড়া পান, চিকিৎসকরা তাঁকে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলেছেন। এই নতুন অভিযোগ মামলার তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আগামী দিনে এর প্রভাব গভীর হতে চলেছে, এমনটাই ধারণা।






