Sheikh Hasina : ‘হাসিনাকে ফিরিয়ে দিন’—ঢাকার দাবি ঘিরে কূটনৈতিক অস্থিরতা, কী বলল বিদেশমন্ত্রক?

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে ফের চর্চা তুঙ্গে। ঢাকার রাজনৈতিক পরিবেশ গত কয়েক মাসে যেমন দ্রুত বদলেছে, তেমনই বেড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলির উদ্বেগও। বাংলাদেশে নতুন প্রশাসন আসার পর থেকে নানা ইস্যুতে আলোচনার ঝড় উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত উত্তেজনা—পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা কেউই স্পষ্ট বলতে পারছেন না।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রেই উঠে এসেছে একটি বড় তথ্য—ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছে। তবে সেই চিঠির বিষয়বস্তু তৎক্ষণাৎ প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক মহলের দাবি, ওই নথিতে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ রয়েছে। যেহেতু তিনি ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতেই আশ্রয় নিয়েছেন, তাই বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ বেশি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারের দাবি, দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সম্প্রতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এরই মাঝে দিল্লির তরফেও এসেছে প্রতিক্রিয়া। বিদেশমন্ত্রক খুব সংক্ষিপ্ত ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। শেখ হাসিনাকে নিয়ে যে রায় হয়েছে, সেটি তারা লক্ষ্য করছে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান—বাংলাদেশের ‘জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ’, শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া—এই মেসেজও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।

এদিকে ঢাকা জানিয়েছে, কেবল শেখ হাসিনা নন, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকেও একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইবুনাল। তাঁদের দু’জনকেই ভারতের কাছে হস্তান্তরের আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষের বক্তব্য, মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের অন্য কোনও দেশে আশ্রয় দেওয়া ন্যায়বিচারকে অসম্মান করার শামিল। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির কথাও। এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Astrology: ৩০ বছর পর ফের বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক যোগ শনি–শুক্রের শক্তিশালী সংযোগে ভাগ্য ফিরবে ৩ রাশির!

যদিও দুই দেশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া খুব সীমিত, তবুও পরিস্থিতির গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। বাংলাদেশে এখনো উত্তেজনা থামেনি, বিক্ষোভ-বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হাসিনা ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেন, বা দিল্লি কী পথে এগোয়—সবকিছুই আগামী দিনের ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করবে। আপাতত দুই দেশের নাগরিকই অপেক্ষা করছেন, কোনদিকে মোড় নেয় এই সংবেদনশীল অধ্যায়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর