গতকাল অর্থাৎ সোমবার সকালে হাসপাতালের সামনে ভিড়, বাস থেকে নেমে কেউ যাচ্ছে চিকিৎসকের চেম্বারের দিকে, কেউ আবার শিশুকে কোলে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে। ঠিক এমনই এক ব্যস্ত সময়ে ঘটল এমন একটি ঘটনা, যা যে কোনও সাধারণ মানুষকে চমকে দিতে পারে। কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত শিশু হাসপাতালে ঘটে যায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে ছ’মাসের সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছিলেন মঞ্জিলা খাতুন। বিসি রায় শিশু হাসপাতালের উদ্দেশে কেবি–২২ নম্বর বাসে ওঠার পরেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় এক অচেনা মহিলার। সাধারণ আলাপচারিতাই পরে গড়াল গভীর বিশ্বাসে। দু’জনেই একসঙ্গে হাসপাতালের ভেতরে ঢোকেন। চিকিৎসার পর ডাক্তার কিছু ওষুধ লিখে দেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা—ওষুধ আনতে যাওয়ার আগে মঞ্জিলা পরিচিত ওই নবাগতা মহিলার কাছেই কিছুক্ষণ শিশুটিকে রেখে যান।
ওষুধ হাতে নিয়ে ফিরতেই যেন মাথায় বাজ পড়ল মঞ্জিলার। যেখানে শিশুকে রেখে গিয়েছিলেন, সেখানে নেই ছেলে, নেই সেই মহিলা। মুহূর্তে শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে তাঁর। হাসপাতালের এদিক-ওদিক দৌড়ে খুঁজেও ছেলের কোনও হদিশ না পেয়ে শেষমেশ তিনি পৌঁছান ফুলবাগান থানায়। কান্নায় ভেঙে পড়া সেই মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তৎপর হয় পুলিশ।
অভিযোগ পাওয়ার পরে পুলিশ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শুরু করে বাস রুট—সব দিকেই নজর দিতে শুরু করে। একাধিক সূত্র জোড়া লাগাতে লাগাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এগোয় তদন্ত। পুলিশ জানতে পারে কাছেই দেখা গেছে সন্দেহজনক গতিবিধি করা ওই মহিলাকে। সেই সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
আরও পড়ুনঃ Sheikh Hasina : ‘হাসিনাকে ফিরিয়ে দিন’—ঢাকার দাবি ঘিরে কূটনৈতিক অস্থিরতা, কী বলল বিদেশমন্ত্রক?
ঘটনার মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ ফিরিয়ে দেয় মায়ের কাছে। শিশুর মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মঞ্জিলা। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। চুরি হওয়া শিশুকে দ্রুত উদ্ধার করতে পেরে পুলিশও প্রশংসা কুড়িয়েছে। তড়িঘড়ি বিশ্বাস করে অচেনা কারও হাতে শিশু তুলে দেওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে—এই ঘটনা আবারও সেই সতর্কবার্তা দিয়ে গেল।





