বাংলার রাজনীতিতে কেন্দ্র–রাজ্য টানাপোড়েন নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশে এমন কিছু মন্তব্য উঠে এসেছে যা শুধু আলোচনাই নয়, নতুন প্রশ্নও তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি ও তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়ে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে বিরোধীদের মুখে। কিন্তু এবার সেই সুর শোনা গেল এমন এক সংগঠনের তরফে, যাদের বক্তব্য সাধারণত দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্য বহন করে।
সম্প্রতি বিজেপির সাংসদ ও প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে তুমুল চর্চা শুরু হয়। তিনি জানান, দিল্লির বহু নেতা বাংলার বাস্তব রাজনীতি বুঝতে পারছেন না, ফলে রাজ্যে বিজেপির প্রভাব বাড়াতে সমস্যা হচ্ছে। তাঁর কথায় সমর্থন জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। এই মন্তব্যে দলীয় অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছিল—দিল্লি আসলে কতটা সক্রিয়?
ঠিক এই বিতর্কের মাঝেই আরএসএস-এর বাংলা মুখপত্র স্বস্তিকা প্রকাশ করল একটি সম্পাদকীয়। সেখানে নাম না করে কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলার প্রশাসনিক অবস্থার অবনতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে সেই লেখায়। যা পাঠ করেই রাজনৈতিক মহলের এক বড় অংশ বলছে, এতদিন বিজেপি নেতাদের মধ্যে যে ক্ষোভ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল, সেটাই যেন এ বার উঠে এসেছে আরএসএস-এর গলায়!
এখানেই থামেনি বিতর্ক। সম্পাদকীয়র শেষ অংশে এমন একটি মন্তব্য রয়েছে যা রাজনৈতিক মহলকে আরও সরব করেছে। সেখানে বলা হয়েছে—পশ্চিমবঙ্গের দুর্দিনে যাঁর পাশে দাঁড়ানোর কথা, তিনি নাকি বরং ‘দিদি-ভাইয়ের মধুর সম্পর্ক’ বজায় রাখতেই বেশি ব্যস্ত। কারও নাম উল্লেখ না থাকলেও সবাই বুঝছেন, ইঙ্গিতটা কার দিকে। এই লাইন সামনে আসতেই বিরোধীরা আবার ‘সেটিং তত্ত্ব’ নতুন করে উসকে দিতে শুরু করেছে। বহুদিন ধরেই সিপিএম ও কংগ্রেস দাবি করে আসছে, তৃণমূল ও কেন্দ্রের মধ্যে নাকি একটা নীরব বোঝাপড়া রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh Controversy: রাষ্ট্রসংঘের তোপের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যু*দণ্ড, বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে তুঙ্গে আন্তর্জাতিক বিতর্ক!
সব মিলিয়ে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই সম্পাদকীয় সামনে আসা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপি নেতা তথাগত রায়ও সম্প্রতি অভিযোগ তুলেছিলেন দিল্লির নেতৃত্ব যথেষ্ট সক্রিয় নয়। সেই প্রেক্ষিতে আরএসএস-এর এই মন্তব্য যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে, তা অনেকেই মনে করছেন। কারণ আরএসএস কোনও রাজনৈতিক দল না হলেও ভারতে তাদের ভূমিকা ও প্রভাব নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। ফলে এই ইঙ্গিত আদৌ শুধুই সমালোচনা, নাকি বড় কোনও বার্তা—এখন সেটাই নজর কাড়ছে।






