Bangladesh : বাংলাদেশে সাংবাদিক হওয়াই কি এখন অপরাধ? ঢাকায় ‘প্রথম আলো’-‘ডেলি স্টার’-এ হাম*লা, খুলনা*য় নিহত সাংবাদিক!

বাংলাদেশে গত কয়েক দিনের অস্থিরতার আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল সংবাদমাধ্যমের উপর। উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাস্তায় বাড়তে থাকা ক্ষোভ আর ক্ষুধার্ত জনরোষ—সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার রাত যেন ভয়াবহ এক বার্তা দিয়ে গেল। মধ্যরাত পেরোতেই ঢাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হঠাৎ অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই আতঙ্কের কেন্দ্রে ছিলেন সংবাদকর্মীরাই, যাঁরা প্রতিদিন সত্য তুলে ধরার কাজ করেন।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় অবস্থিত ইংরেজি দৈনিক ‘ডেলি স্টার’-এর প্রধান দফতরে হামলা চালায় উন্মত্ত জনতা। প্রথমে ব্যাপক ভাঙচুর, তার পর বহুতলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভিতরে আটকে পড়েন অন্তত ৩০ জন সাংবাদিক ও কর্মী। ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা ছাদে উঠে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে দমকলবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শেষে বিশাল ক্রেন এনে একে একে দগ্ধ বহুতল থেকে নামানো হয় সাংবাদিকদের।

এই আতঙ্ক এখানেই থামেনি। একই রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত আর এক জনপ্রিয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’-র অফিসেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ভিতরে ঢুকে তছনছ করা হয় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কম্পিউটার। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক পোস্টে ‘ডেলি স্টার’-এর মহিলা সাংবাদিক জ়াইমা ইসলাম ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পারার কথা জানিয়ে সাহায্যের আবেদন জানান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তাজনিত কারণে শুক্রবার দুই সংবাদপত্রেরই মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়নি, ডিজিটাল কাজও ধীরগতিতে চলছে।

ঢাকার ঘটনার পাশাপাশি একই দিনে খুলনায় আরও এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। আততায়ীদের গুলিতে খুন হন সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন (৪৫)। তিনি ‘বর্তমান সময়’ পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন এবং শলুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, নামের মিল থাকলেও তিনি বিশিষ্ট সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন নন। এই হত্যাকাণ্ডে সংবাদমহলে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh : ‘যুদ্ধে আছি ভারতের সঙ্গে’—চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনে হামলার চেষ্টা, রাজশাহীতে ঘেরাও ডাকের জেরে অশান্ত বাংলাদেশ!

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সহিংস রূপ নিচ্ছে। ঢাকার শাহবাগ থেকে শুরু করে একাধিক শহরে জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদপত্রের দফতরে হামলার সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন ‘নিউ এজ’-এর সম্পাদক নুরুল কবিরও। দ্রুত অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর