নির্বাচনের আবহে যখন রাজ্য রাজনীতি ক্রমশই উত্তপ্ত, ঠিক তখনই নদিয়ার মায়াপুরে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হল। কীর্তনের সুর, ভক্তদের ভিড় আর গেরুয়া আকাশের নীচে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি ঘিরে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। অনেকেই ভেবেছিলেন, ছাব্বিশের নির্বাচন সামনে রেখে হয়তো কোনও রাজনৈতিক বার্তা উঠে আসবে তাঁর বক্তব্যে। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ অন্য ইঙ্গিতই দিল।
বুধবার অমিত শাহ পৌঁছন মায়াপুরে। নবদ্বীপে জন্মেছিলেন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু— সেই পীঠস্থানেই তিনি উপস্থিত হন। শুরুতেই স্পষ্ট করেন, তিনি এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন ভক্ত হিসেবে এসেছেন। তাঁর কথায়, “চৈতন্যদেব ভক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন এবং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখানে এসে চেতনা জাগ্রত করার সুযোগ পেলাম।” বক্তব্যের শুরুতেই রাজনীতির সম্ভাবনা যেন খানিকটা স্তিমিত হয়ে যায়।
এরপর তিনি ভক্তি, আস্থা ও আধ্যাত্মিকতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আধুনিকতা কখনও ধর্মের শত্রু নয়। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অটুট ভক্তি থাকলে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, জীবনে বহু ধর্মপুরুষের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে। তবে আমদাবাদের এক সাধুর কথা তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল— যিনি নিজেকে তাঁর সেবক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। সেই বিনয়ের শিক্ষা তাঁকে ভাবিয়েছে বলেই জানান তিনি।
ভক্তি সিদ্ধান্ত স্বামীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনিই যথার্থ গুরু।” পাশাপাশি উল্লেখ করেন, জন্মগত পরিচয় নয়, বৈরাগ্যই আসল— খারাপকে দূরে সরিয়ে শ্রীকৃষ্ণের পায়ে ভক্তি অর্পণ করাই প্রকৃত সাধনা। বক্তব্যের শেষেও রাজনৈতিক শব্দের ছোঁয়া ছিল না। মঞ্চ ছাড়ার আগে তাঁর কণ্ঠে ভেসে আসে, “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ…।”
আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : মার্চে বাংলার ৫ রাজ্যসভা আসনের ভোট, ৩৭ আসনে শুরু রাজ্যসভার নির্বাচনী লড়াই!
তবে এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও উঠে এসেছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, ভোটের আগে ইসকনে উপস্থিতি কেবল ‘ডেইলি প্যাসেনজারি’। তাঁর দাবি, বাংলায় ইসকনের নানা বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে চিন্ময় প্রভুর বন্দিদশা প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। ফলে ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক ভাষণ না থাকলেও, সফর ঘিরে রাজনৈতিক তরজা থামেনি বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।





