জলপাইগুড়িতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই আবারও চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল এক পঞ্চায়েত সদস্যের নাম। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে আগে থেকেই রাজনৈতিক মহলে চাপা উত্তেজনা ছিল। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পর যে ঘটনাটি সামনে এসেছে, তা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আগুন জ্বালিয়েছে।
ঘটনাটি ধূপগুড়ি ব্লকের বারোঘড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতকে ঘিরে। তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্যা ঝর্ণা মণ্ডল বর্মণের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এর আগেই বিজেপির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তিনি নাকি বাংলাদেশের বাসিন্দা। এসআইআরের প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি সামনে আসে। যদিও তখন তৃণমূল এই অভিযোগকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলেই দাবি করেছিল।

ঝর্ণা মণ্ডল বর্মণের স্বামী রতন বর্মণ আগে জানিয়েছিলেন, বিয়ের পর ঝর্ণা এদেশে আসেন এবং ২০১১ সালে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়। ২০১৩ সালে তিনি বিজেপি প্রার্থী হিসেবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তৃণমূলে যোগ দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাঁর নাগরিকত্ব নিয়েই তখন চাপানউতোর শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী করে এবং তিনি নির্বাচিত হন। কিন্তু এবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, তাঁর নাম আর নেই।
এই প্রসঙ্গে ওই বুথের বিএলও জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইআরও (ERO) তাঁকে অবৈধ ভোটার বলেই বাতিল করেছেন। তাঁর দাবি, ঝর্ণা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারেননি এবং বিবাহসূত্রেই এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি আরও জানান, ওই বুথে মোট ১৪ জনের নাম বাদ গিয়েছে এবং ১৭০ জনের নাম এখনও অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে। এমনকি তাঁর নিজের নামও সেই তালিকায় রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ঝর্ণা মণ্ডল বর্মণ প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি, তবে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে, তিনি মানসিক চাপে রয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের কথা বলছে। বিজেপি অবশ্য এই ইস্যুকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে একটি নাম বাদ যাওয়া ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা এখন জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






