জল্পনা চলছিল বেশ কিছু দিন ধরেই, আর শুক্রবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বড় চমক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। দলীয় ঘোষণায় সামনে এসেছে চারটি নাম, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চিত নাম কোয়েল মল্লিক। তাঁর পাশাপাশি প্রার্থী হয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়, রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
কোয়েলকে এর আগে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। এমনকি তিনি রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন, সেই ইঙ্গিতও প্রকাশ্যে আসেনি কখনও। তাই তাঁর নাম ঘোষণার পর অনেকেই বিস্মিত। অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা থাকলেও জনজীবনের আলোচনায় ব্যক্তিগত জীবনকে বরাবরই আড়ালে রেখেছেন তিনি। এই নতুন ভূমিকায় তাঁর পথচলা কেমন হবে, তা নিয়ে এখন কৌতূহল তুঙ্গে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অভিষেক নিঃসন্দেহে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দলীয় সহকর্মীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অভিনেত্রী ও সাংসদ শতাব্দী রায় জানিয়েছেন, কোয়েল অত্যন্ত মনোযোগী এবং যে কাজই করেন, নিষ্ঠার সঙ্গে করেন। তাঁর বিশ্বাস, নতুন দায়িত্বেও কোয়েল একই রকম দায়িত্বশীল থাকবেন। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রার্থীদের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও জনসমর্থন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বড় সম্পদ হতে পারে বলে মত অনেকের।
তবে অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া একরকম নয়। কেউ অভিনন্দনে ভরিয়ে দিয়েছেন, কেউ আবার হতাশ হয়েছেন প্রিয় অভিনেত্রীকে রাজনীতির ময়দানে দেখে। কোয়েল বরাবরই ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের বাইরে রেখেছেন। বিয়ে থেকে শুরু করে সন্তান, সবটাই থেকেছে লোকচক্ষুর আড়ালে। সামাজিক মাধ্যমেও তিনি খুব সক্রিয় নন। ফলে তাঁর এই হঠাৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনেককেই অবাক করেছে। এখন দেখার, পর্দার জনপ্রিয়তা কতটা রাজনৈতিক সমর্থনে রূপ নেয়।
প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের বার্তায় জানিয়েছে, নতুন প্রার্থীরা যেন দলের স্থিতিস্থাপকতার উত্তরাধিকার বহন করেন এবং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে কোয়েলের নতুন অধ্যায় কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে। আপাতত টলি কুইনের এই নতুন পরিচয় ঘিরে উত্তেজনা এবং কৌতূহল দুইই সমান তালে চলছে।





