Mamata Banerjee : ধর্নামঞ্চে হঠাৎ উত্তেজনা, মাইক্রোফোন হাতে নির্দেশ মমতার—‘লিফলেট বিলি করলে হাতেনাতে ধরুন’!

ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে সাধারণত রাজনৈতিক বক্তব্য, স্লোগান আর কর্মীদের উপস্থিতিতেই জমে ওঠে পরিবেশ। তবে সোমবার দুপুরে সেই পরিচিত ছবির মাঝেই হঠাৎ তৈরি হয় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকরা প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। কারণ আচমকাই মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তীব্র সুরে নির্দেশ দিতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুহূর্তের মধ্যেই মঞ্চ ও আশপাশের এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে কৌতূহল ও উত্তেজনা।হঠাৎই বক্তব্যের মাঝখানে মমতা বলেন, কেউ যদি মিটিং শুনতে আসে তাতে আপত্তি নেই, কিন্তু ধর্নামঞ্চের ভিতরে অন্য দলের লিফলেট বিলি করা চলবে না। তাঁর নির্দেশ ছিল স্পষ্ট—যাঁরা এই কাজ করছেন, তাঁদের হাতেনাতে ধরে পুলিশকে তুলে দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে মঞ্চে উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত হয়ে পড়েন। ঠিক কী ঘটেছে, কেন এমন কথা বলছেন তিনি—সেই প্রশ্ন তখন ঘুরপাক খেতে থাকে উপস্থিতদের মধ্যে।

এরপর নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ধর্নামঞ্চের আশপাশে বিজেপির কর্মীরা লিফলেট বিলি করছিলেন। ওই লিফলেটে ১৪ মার্চের ব্রিগেড সমাবেশের প্রচার করা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি সামনে আসতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মমতা সেখান থেকেই দলীয় নেত্রী শশী পাঁজাকে এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করার কথাও বলেন।

ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে মমতা তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, যাঁরা লিফলেট বিলি করছেন তাঁদের ধরতে হবে, কারণ মানুষের সমর্থন না থাকায় এই ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে নানা সময়ে মিথ্যা দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং তদন্ত সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়। যদিও তিনি এটাও বলেন, তাঁদের দল সংবেদনশীল, কিন্তু অন্যায় হলে তা প্রকাশ্যে আনতেই হবে।

আরও পড়ুনঃ মঞ্চেই ভেঙে পড়লেন সুনিধি চৌহান! গাইতে গাইতে কান্নায় ভেসে গেল দুই চোখ! ক্ষমা চাইলেন গায়িকা!

কিছুক্ষণ পর মমতা দু’জন ব্যক্তির ছবি ও পোস্টার দেখিয়ে দাবি করেন, তাঁরাই লিফলেট বিলি করছিলেন এবং পরে পালিয়ে গিয়েছেন। তবে পরে তাঁদের ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি। যদিও বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ধর্নামঞ্চে লিফলেট বিলি করছে না। বরং এটি তৃণমূলেরই সাজানো ঘটনা বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কোনও জায়গায় প্রচার করার অধিকার রয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে সোমবার ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে কিছু সময়ের জন্য রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে ওঠে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles