রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে সামান্য অভিযোগও বড় বিতর্কে পরিণত হচ্ছে। সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিশেষ সংক্ষিপ্ত পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী ও শাসকদল—দুই পক্ষই সরব হয়েছে। এই আবহেই রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই বৈঠক শেষ হওয়ার আগেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিল একাধিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, সাম্প্রতিক সংশোধনের পর ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যা নিয়ে তাঁদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। এই বিষয়েই আলোচনা করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে যান রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ফিরহাদ হাকিম। বৈঠকে তাঁরা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকার অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে এবং তাঁদের বক্তব্য ঠিকমতো শোনার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তৃণমূলের দাবি, বৈঠকের এক পর্যায়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যখন ভোটার তালিকার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছিলেন, তখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার হঠাৎই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। অভিযোগ, তিনি চিৎকার করে প্রশ্ন করেন—যখন বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে, তখন আবার এই আলোচনার প্রয়োজন কেন। সেই সময়ই নাকি চন্দ্রিমাকে “Don’t shout” বলে ধমক দেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বৈঠকের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি তৃণমূল প্রতিনিধিদের।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যই। তাঁর বক্তব্য, “আমাকে বলা হয়েছে আপনারা তো সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। যাব না কেন? আমাদের অধিকার আছে। রাজ্যের মানুষের জন্যই গিয়েছি।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি সব বিষয় আদালতেই বিচারাধীন থাকে, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলিকে আলোচনার জন্য ডাকা হল কেন। চন্দ্রিমার কথায়, একজন মহিলার সঙ্গে ওই ধরনের রুক্ষ ভাষায় কথা বলা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : ধর্নামঞ্চে হঠাৎ উত্তেজনা, মাইক্রোফোন হাতে নির্দেশ মমতার—‘লিফলেট বিলি করলে হাতেনাতে ধরুন’!
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এখন আর নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না এবং বিজেপির নির্দেশেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে বৈঠকে যা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে এই টানাপোড়েন আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।






