নির্বাচনের মরশুমে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ যে কতটা তীব্র হতে পারে, তার প্রমাণ মিলল শুক্রবার বেলদা থেকে। সকাল বেলায় শীতল পরিবেশের মধ্যে শহরটা যেন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, ভোটের আগে সবদিকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় চলাফেরা করলেও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সতর্কতার ছাপ ছিল স্পষ্ট। এই আবহের মধ্যে ঘটে গেল একটি বিতর্কিত ঘটনা, যা পরবর্তী সময়ে রাজনীতির অঙ্গনে সরগরম খবর হয়ে উঠল।
সকালে ভোর ৫.৩০ নাগাদ বেলদার পাতলি এলাকায় একটি বিজেপি সমর্থক বাস আহার মুণ্ডার দিকে যাচ্ছিল। জানা গেছে, কিছু দূর আগে কিছু দুষ্কৃতী বাসটিকে আটকায় এবং চালককে জিজ্ঞাসা করে কোথায় যাচ্ছেন। চালক জানান, ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভায় যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তেই বাসটির চারপাশে হঠাৎ ঘিরে ধরে বাইকবাহিনী, এবং এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ শুরু হয়। বাসের কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং চালক ও খালাসি আহত হন। দুষ্কৃতীরা ঘটনার পর চম্পট দেয়।
এই ঘটনার পর স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে, তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই বাসটিতে হামলা চালিয়েছে, কারণ ব্রিগেডে ওই দিন প্রধানমন্ত্রী সভা করবেন। অন্যদিকে নারায়ণগড় ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুকুমার জানিয়েছেন, তাদের দল এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয় এবং পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করবে। যদিও এই ঘটনার কোনো লিখিত অভিযোগ এখনও বেলদা থানায় দায়ের করা হয়নি।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে শনিবারের ব্রিগেড সভার প্রস্তুতি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রীর সভার মঞ্চ সাজানো হয়েছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের আদলে। মঞ্চে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে—দার্জিলিঙের চা বাগান থেকে বাঁকুড়ার টেরাকোটা শিল্পের ছবি পর্যন্ত। মঞ্চের সাজসজ্জায় ধর্মীয় প্রতীকও স্থান পেয়েছে, যেখানে মা কালী ও মা দুর্গার ছবি LED স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার বেলা ১ টা ২০ নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। ১ টা ৪৫ নাগাদ রেসকোর্স হেলিপ্যাডে নামবেন এবং এরপর ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রশাসনিক সভায় যোগ দেবেন। দুপুর ২ টা ৪০ মিনিট নাগাদ তিনি ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’-র মঞ্চে উপস্থিত হবেন। ভোটের আগে এই উচ্চমার্গীয় প্রচার এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা রাজ্যের নির্বাচনী মঞ্চকে আরও সরগরম করে তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi rally : ভোটের আগে বাংলাকে দু’হাত ভরে উপহার নরেন্দ্র মোদির! ব্রিগেড মঞ্চে কোন কোন বড় প্রকল্পের ঘোষণা অপেক্ষা করছে রাজ্যের মানুষের জন্য?
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে বিভিন্ন দলের কর্মীরা নিজেরাই নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তার নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। বেলদার এই ঘটনা তার প্রমাণস্বরূপ, যেখানে সাধারণ নির্বাচনী পরিবেশের সঙ্গে মিশে গেছে হঠাৎ উত্তেজনা, যা ভোটের দিকে এগোতে থাকা রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চকে আরও উত্তপ্ত করেছে।






