West Bengal assembly election 2026 : “বিজেপি-কমিশন মিলে আমার সব কেড়ে নিয়েছে, তবে আমার কাছে মানুষ আছে” ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! মানুষের সমর্থনেই কি ঘুরে দাঁড়াবে তৃণমূল? কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?

উত্তরবঙ্গের বাতাসে এখন স্পষ্ট ভোটের গন্ধ। চা-বাগান থেকে ছোট শহর সব জায়গাতেই আলোচনা একটাই, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (west bengal assembly election 2026)। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বড় নেতাদের জনসভা ঘিরে তৈরি হচ্ছে উত্তেজনা, প্রত্যাশা আর পাল্টা অভিযোগের এক জটিল মিশ্রণ। সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন এই ভোটে কার হাতে যাবে ক্ষমতার চাবিকাঠি?

বুধবার জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি টাউন ক্লাব মাঠে জনসভা দিয়ে উত্তরবঙ্গে প্রচার শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্নপূর্ণা পুজোর দিনকে সাক্ষী রেখে তিনি প্রচারের সূচনা করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায়ও। শুরু থেকেই জনসভায় ছিল ভিড় ও উচ্ছ্বাস, তবে সেই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই ধীরে ধীরে উঠে আসে রাজনৈতিক আক্রমণের সুর।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক ক্ষমতার অনেকটাই তাঁর হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর প্রার্থীকে ভয় দেখানো হচ্ছে এবং হিংসার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাম না করে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ-কেও নিশানা করেন। তিনি জনতার উদ্দেশে বলেন, “এক, দুই, তিন ওদের বিদায় দিন।”

ময়নাগুড়ির সভা থেকে ভোটার তালিকা নিয়ে বড় অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, সম্পূরক তালিকায় বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে, বিশেষ করে মহিলাদের এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে NRC-র মতো বড় ইস্যুর দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “আমি বেঁচে থাকতে ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেব না।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান, বহুবিবাহ নিয়ে বিতর্কের মাঝেও সুখী ইউটিউবার আরমান মালিক! প্রথম স্ত্রী পায়েল মালিক, আবারও জন্ম দিলেন সন্তান! ঘটনা ঘিরে শোরগোল নেটপাড়ায়!

সভায় শেষের দিকে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মূল বার্তাটি স্পষ্ট করেন। পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক ক্ষমতা তাঁর হাত থেকে চলে গেলেও একটি জিনিস এখনও তাঁর সঙ্গে আছে—মানুষের সমর্থন। তাঁর কথায়, “বিজেপি-কমিশন মিলে আমার সব কেড়ে নিয়েছে, তবে আমার কাছে মানুষ আছে।” একই সঙ্গে তিনি আলুচাষিদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার বার্তাও দেন। সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন এই লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, মানুষের আস্থারও।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles