বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন কিছু নয়, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উদ্বেগ যেন আরও গভীর হচ্ছে। সরকার বদলালেও বাস্তব পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি এমন অভিযোগ বহুদিন ধরেই উঠে আসছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজনের মধ্যে একটা অস্বস্তি এবং আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে, যা বারবার নানা ঘটনার মাধ্যমে সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই আরও উসকে দিল।
রবিবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই চমকে ওঠে দিনাজপুর জেলার একটি এলাকা। শহরের সুইহারী আশ্রম পাড়া এলাকায় রাত দেড়টা নাগাদ একটি বাড়িতে আগুন লাগে। প্রথমে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। এলাকার মানুষ তখন ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু তখন আর কিছু করার ছিল না। ঘরের ভেতর থেকেই উদ্ধার হয় তপন সরকার (৪৮) এবং তাঁর স্ত্রী লতা সরকারের (৩৫) দগ্ধ দেহ। প্রতিবেশীদের দাবি, আগুন লাগার সময় দম্পতি ঘরের ভিতরেই ছিলেন এবং বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি। তবে এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে?
দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের একাংশের দাবি, ঘটনাটি স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে সত্যিটা কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই দ্বন্দ্বই এখন সবচেয়ে বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভোটের দিন বুথে ঢুকতে ‘ডবল চেকিং’ বাধ্যতামূলক! জওয়ানদের পর এবার বিএলও-র কড়া যাচাই, ভুয়ো ভোট রুখতে দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়, গাফিলতি হলেই কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি কমিশনের, ১০০ মিটারে জারি কড়াকড়ি নজরদারি!
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ নতুন নয়। অতীতে দীপু দাসকে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনাও ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। সেই ঘটনার পর অনেকেই আশা করেছিলেন পরিস্থিতির বদল ঘটবে। কিন্তু দিনাজপুরের এই সাম্প্রতিক ঘটনা ফের সেই পুরনো আতঙ্ককে সামনে নিয়ে এল। সংখ্যালঘুদের একাংশের অভিযোগ, এখনও তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটছে না। ফলে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি এখন সেটাই সবচেয়ে বড় দাবি হয়ে উঠছে।





