ভোটার তালিকা নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই স্পষ্ট বার্তা, “ভোট না দিতে পারলেও হারাবে না অধিকার”! দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ শীর্ষ আদালতের!

ভোটের মরশুম মানেই নানা প্রশ্ন, সংশয় আর উত্তেজনা কেউ নাম তুলতে পারছেন না, কেউ আবার শেষ মুহূর্তে আবেদন করছেন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে একটাই বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, যদি কোনও কারণে ভোট দেওয়া না যায়, তাহলে কি চিরতরে হারিয়ে যাবে ভোটাধিকার? এই সংশয়ের মধ্যেই সামনে এল গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, যা কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে বহু মানুষকে।

এই প্রেক্ষাপটেই বুধবার শীর্ষ আদালতে উঠে এল ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিচারপতিদের বেঞ্চ জানাল, বর্তমানে বিপুল সংখ্যক আবেদন বিচারাধীন রয়েছে এবং সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির কাজ চলছে। আদালতে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কমিশনের তরফে একটি আপিল ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে, যা এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করতে সাহায্য করবে।

শুনানির সময় বিচারপতিরা স্পষ্ট করে দেন, যেখানে কোনও নথির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকবে, সেখানে ট্রাইবুনাল তা যাচাই করবে। আবেদনকারীর জমা দেওয়া প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি, কোনও ব্যক্তির নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে বিতর্কের সম্ভাবনাও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে আদালতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে, শেষ মুহূর্তে বিপুল সংখ্যক নতুন আবেদন জমা পড়া। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের আইনজীবী। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যায় এবং কোনও নাগরিকের অধিকার খর্ব করা যায় না। এমনকি যে ব্যক্তি সদ্য প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছেন, তিনিও আবেদন করার অধিকার রাখেন। আদালতও এ বিষয়ে পরিষ্কার করে দেয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তারাই প্রক্রিয়ার আওতায় থাকবেন।

আরও পড়ুনঃ রাহুল অরুণোদয়ের অস্বাভাবিক মৃ’ত্যুর তিন দিন পরও মেলেনি বিচার! প্রযোজনা সংস্থা চুপচাপ, FIR দায়েরের পথে প্রিয়াঙ্কা সরকার! প্রশ্ন বেড়েছে টলিউডে নিরাপত্তা ও দায়িত্ব নিয়ে?

শুনানির শেষ পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি আসে বিচারপতিদের তরফে। স্পষ্টভাবে জানানো হয়, কোনও ব্যক্তি যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার অর্থ এই নয় যে তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে হারিয়ে গেল। পরবর্তী পর্যায়ে আপিলের মাধ্যমে তাঁর নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ, ভোট দিতে না পারা একটি সাময়িক পরিস্থিতি হতে পারে, স্থায়ী নয়। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সমস্ত বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যাতে চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে আর কোনও বিভ্রান্তি না থাকে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles