ভোটের মুখে হঠাৎ করেই যেন ছন্দপতন। রাজ্য রাজনীতিতে যখন প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ, তখনই এক অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা। নির্বাচনী প্রস্তুতি তুঙ্গে, মাঠে-ময়দানে কর্মব্যস্ততা চরমে, এই সময়েই এমন একটি পদক্ষেপ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপা গুঞ্জন। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ঠিক কতটা পড়তে চলেছে আসন্ন ভোটে?
সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (Indian Political Action Committee) হঠাৎ করেই পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থার তরফে কর্মীদের একটি ইমেল পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু আইনি ‘বাধ্যবাধকতা’র কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। শুধু কাজ বন্ধই নয়, কর্মীদের আগামী ২০ দিনের জন্য সাময়িক ছুটিতেও পাঠানো হয়েছে। জানানো হয়েছে, ১১ মে-র পর আবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে। সংস্থার বার্তায় আইনকে সম্মান জানিয়ে সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের সময়কালই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে। কারণ, রাজ্যে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা, আর ফল প্রকাশ হবে ৪ মে। অর্থাৎ আইপ্যাকের এই ২০ দিনের বিরতি শেষ হতে হতে কার্যত ভোটপর্ব মিটে যাবে। ফলে নির্বাচনী প্রচারে কৌশলগতভাবে বড় ভূমিকা নেওয়া এই সংস্থার হঠাৎ সরে দাঁড়ানো শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সংস্থার কিছু অংশ বিকল্প উপায়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে আইপ্যাকের কর্মীদের কাছে এই ইমেল পৌঁছায়। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দফতরে বিভিন্ন জেলার কর্মীদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের কৌশলগত নির্দেশ দেওয়া হবে। কিন্তু তার বদলে আসে কাজ বন্ধের বার্তা, যা অনেক কর্মীকেই অবাক করে দিয়েছে। মাঠে যারা কাজ করছিলেন, তাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ এখনও নেই।
আরও পড়ুন: “নারীশক্তির বিরোধিতা পাপ…বিরোধীদের পাপের ক্ষমা নেই” জাতির উদ্দেশে ভাষণে Congress, DMK, TMC-কে সরাসরি নিশানা নরেন্দ্র মোদির!
এই ঘটনার পেছনে সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় তদন্তের ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার সূত্রে আইপ্যাকের অন্যতম কর্ণধারদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে, এমনকি গ্রেফতারিও হয়েছে। এর আগেই সংস্থার দফতর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি, সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, অভিষেক ব্যানার্জিও এই পদক্ষেপকে ‘ভীতি প্রদর্শন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সব মিলিয়ে নির্বাচন ঠিক আগে আইপ্যাকের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন নজর, এই ইস্যুতে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং তার প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা পড়ে।





