“২০ দিনের কাজ বন্ধের খবর মিথ্যে, বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা”, আইপ্যাক ইস্যুতে সরব তৃণমূল, নির্বাচনের মুখে অপপ্রচারের অভিযোগে তোপ শাসকদলের!

নির্বাচনের ঠিক আগের সময়ে রাজ্য রাজনীতি যেন আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ছোট একটি খবরও মুহূর্তে বড় বিতর্কে পরিণত হয়। ঠিক তেমনই এক ঘটনাকে ঘিরে রবিবার সকাল থেকে শুরু হয় জোর চর্চা তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কি বড় কোনও বদল ঘটতে চলেছে? রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে নানা প্রশ্ন।

সকালের দিকেই একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (Indian Political Action Committee) নাকি পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২০ দিনের জন্য সমস্ত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি সংস্থার কর্মীদের সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি ওঠে। বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়, সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগ নাকি কর্মীদের ১১ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছে, এরপর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে বেলা বাড়তেই এই জল্পনায় জল ঢালে তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)। দলীয় তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি। বিবৃতিতে বলা হয়, আইপ্যাকের টিম রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের সঙ্গে আগের মতোই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রচার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। দলের দাবি, এ ধরনের খবর ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাহলে প্রশ্ন উঠছে, বাস্তব ছবিটা কী? দলীয় সূত্রের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কাজ সবই স্বাভাবিক রয়েছে। যদিও সকালবেলায় কিছুটা কম সক্রিয়তা চোখে পড়েছিল, কিন্তু তা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ দল। বরং তৃণমূলের বক্তব্য, ভোটের আগে এ ধরনের ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করাই বিরোধীদের কৌশল হতে পারে।

সবশেষে তৃণমূল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বাংলার মানুষ এই ধরনের বিভ্রান্তিতে প্রভাবিত হবেন না। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন এবং ৪ মে ফলাফলের দিনই সব প্রশ্নের জবাব দেবে জনগণ। সব মিলিয়ে আইপ্যাককে ঘিরে এই বিতর্ক নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার, এই জল্পনা কতটা প্রভাব ফেলে ভোটের ময়দানে এবং শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের দাবি সত্যি প্রমাণিত হয়।

Sangita Chatterjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles