মোদী-মমতা বৈঠকে স্বামীর সঙ্গে ঢুকতে দেওয়া হল না নুসরতকে, বচসায় জড়ালেন বসিরহাটের সাংসদ

“স্বামীকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি কেন?” এই রাগে-অভিমানে বসিরহাট ছাড়লেন সাংসদ নুসরত জাহান। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গে আসেন আম্ফান কবলিত এলাকা পরিদর্শনে। হেলিকপ্টারে ঘুরে দেখেন পুরোটা। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তাঁদের শেষ গন্তব্য ছিল বসিরহাট।

এরপর বসিরহাট কলেজ লাগোয়া পিছনের মাঠে তৈরি অস্থায়ী একটি হেলিপ্যাড তৈরি হয়েছিল। সেখানেই এক চপার থেকে নামেন মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল-প্রধানমন্ত্রী। মোদিকে স্বাগত জানাতে হাজির হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, দেবশ্রী চৌধুরি-সহ বিজেপি নেতৃত্ব। বসিরহাট কলেজেই এরপর বৈঠকে বসেন তাঁরা। তখনই আসরে অবতীর্ণ হন বসিরহাটের সাংসদ নুসরত জাহান। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী নিখিল জৈন ও দুই আপ্ত সহায়ক। কলেজে ঢোকার মুখে নুসরতকে প্রথমে বাধা দেওয়া হয়। তবে তিনি নিজের সাংসদ পরিচয় দেওয়ার পর প্রবেশের অনুমতি পান বলে জানা যায়। তাঁর সঙ্গে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন নিখিলও। কিন্তু নুসরতের স্বামী ও দুই আপ্তসহায়ককে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এসপিজির তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ভিতরে প্রশাসনিক বৈঠক হচ্ছে। কোনও রাজনৈতিক দলের বৈঠক নয়। তাই সাংসদ অন্য কাউকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন না। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি নুসরত। সেখানেই বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু শেষমেশ নিখিলকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় তিনি নিজেও সেখান থেকে বেরিয়ে যান। অভিমানে তিনি আর ফেরেননি।

লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হিসেবে বসিরহাট কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েই জয়ী হয়েছিলেন নুসরত। নিজের এলাকায় সাংসদ হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় তিনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে এলেও ‘মোদী-দর্শন’ হল না তাঁর। এই ঘটনায় অবশ্য তীব্র ভাবে সমালোচিত হচ্ছেন অভিনেত্রী। “স্বামীকে নিয়ে যাওয়ার কি খুব দরকার ছিল?” এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে নেটদুনিয়ায়।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসিরহাট। এখনও পর্যন্ত সেখানে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলার বিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে টুইট করেছিলেন নুসরত। লিখেছিলেন, “এই সময় সকলকে পরস্পরের পাশে থাকতে হবে। সকলে মিলে প্রার্থনা করতে হবে, যাতে দ্রুত এই বিপর্যয় কেটে যায়।”

আরও অন্যান্য খবর