২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক ছবিতে বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। দীর্ঘদিনের সমীকরণ বদলে এবার ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিজেপি। এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে টলিউডের অন্দরেও। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে ঘিরে শুরু হয় নানা বিতর্ক। তাঁর পদত্যাগের দাবিও তোলা হয় একাংশের তরফে। যদিও সেই সময় সরাসরি জবাব দিয়েছিলেন পিয়া। পরিস্থিতি নিয়ে টলিপাড়ায় জোর চর্চা চললেও এবার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে এসেছে ইম্পা। আগামী ২২ মে সংগঠনের অফিসে একটি সাধারণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেই বিজেপির জয়ী তারকা প্রার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইম্পার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই কয়েকজন পরিচিত মুখকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায়। এই উদ্যোগ সামনে আসতেই নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে টলিপাড়ায়। অনেকের প্রশ্ন, এতদিন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ভাবমূর্তি থাকার অভিযোগ ওঠার পর কি এবার সেই ইমেজ বদলাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? যদিও সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন পিয়া সেনগুপ্ত। তাঁর বক্তব্য, ইম্পা কোনও দিনই রাজনৈতিক রঙে নিজেদের বাঁধতে চায়নি। আগে বাম আমলেও সংগঠন শিল্পীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলেছে। ভবিষ্যতেও একইভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা হবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
পিয়া সেনগুপ্ত আরও বলেন, যাঁদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে তাঁরা প্রত্যেকেই টলিউডের পরিচিত মুখ এবং দীর্ঘদিনের শিল্পী। সেই কারণেই সংগঠনের তরফে তাঁদের সম্মান জানানো হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখা ঠিক হবে না বলেও মত তাঁর। সংগঠনের দাবি, শিল্পীদের সাফল্যকে গুরুত্ব দিয়েই এই আয়োজন করা হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন তারকা তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। কেউ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন, আবার কেউ দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে অনুষ্ঠান ঘিরে এখন থেকেই টলিউডে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে।
অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী জানিয়েছেন, তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তাঁর মতে, বহু বছরের পুরনো এই সংগঠন এখনও নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রেখেছে এবং শিল্পীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তাই সংগঠনের আমন্ত্রণ তিনি গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে রুদ্রনীল ঘোষ জানিয়েছেন, সময় ও কাজের সুযোগ থাকলে তিনিও অনুষ্ঠানে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে শর্বরী মুখোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে তিনি অনুষ্ঠানে থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই নিয়ে নানা জল্পনা চললেও ইম্পার তরফে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি জোর কদমে শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ হঠাৎ অসুস্থ ছোট্ট আদি! হাসপাতালে ভর্তি জোজো মুখোপাধ্যায়ের পুত্র! কী হয়েছে তাঁর? গায়িকার কথা শুনে, উদ্বেগে অনুরাগীরা!
অন্যদিকে অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলেই জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি মূলত অভিনেতা এবং ইম্পা প্রযোজকদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত। সেই কারণে সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, তাঁর অভিনয় জীবনে পিয়া সেনগুপ্তের কোনও অবদান নেই। শুধু ইম্পা নয়, সমস্ত সংগঠন, বিনোদন জগৎ এবং সংবাদমাধ্যমেরও রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত বলেও মত প্রকাশ করেছেন হিরণ। ফলে একদিকে সংবর্ধনার প্রস্তুতি, অন্যদিকে মতভেদের সুর মিলিয়ে ইম্পার এই অনুষ্ঠান এখন টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।





