“জিমরুমের ভেতরেই বিছানা, চারদিকে বিয়া’রের বোতল আর কনড’মের স্তূপ!” লাভপুর শম্ভুনাথ কলেজকে কি তবে ছাত্ররাজনীতির নামে ‘oyo room’-এ পরিণত করেছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ছেলেরা? ভাইরাল ভিডিওতে কোন তথ্য সামনে আসলো?

দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় নতুন সরকার গঠন করেছে বিজেপি। সরকার বদলের পর থেকেই রাজ্যের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর ও সংগঠনকে ঘিরে সামনে আসছে নানা বিস্ফোরক অভিযোগ। সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বহু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পরিবেশ হারিয়ে রাজনৈতিক দাদাগিরি, সন্ত্রাস এবং অসামাজিক কাজের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছিল। ভোটের ফলাফলেও সেই ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। আর এবার সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠল বীরভূমের লাভপুর শম্ভুনাথ কলেজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে।

অভিযোগ উঠেছে, কলেজের ভেতরেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কিছু সদস্য বছরের পর বছর ধরে এমন পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মানানসই নয়। সম্প্রতি কলেজ খোলার পর ভিতরে ঢুকেই দেখা যায় একাধিক ঘরে ছড়িয়ে রয়েছে বিয়ারের বোতল, মদের বোতল, কনডমের প্যাকেট এবং ব্যবহৃত কনডম। কলেজের জিমরুমে তৈরি করা হয়েছিল অস্থায়ী শোয়ার জায়গা, বিছানায় রক্তের দাগ পর্যন্ত দেখতে পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনার ছবি এবং ভিডিও সামনে আসতেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজটিকে কার্যত ‘oyo room’-এর মতো ব্যবহার করা হত। অভিযোগের তির মূলত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কয়েকজন নেতার দিকে। হিরণ, কামু নামে কয়েকজন ছাত্রনেতা এবং তাদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকার মানুষের দাবি, দিনের পর দিন কলেজের ভিতরে কী চলত তা সবাই কমবেশি বুঝলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না। পড়াশোনার পরিবেশ তো দূরের কথা, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের একাংশ নাকি কলেজে আসতেও ভয় পেত।

এই ঘটনার কথা প্রথম সমাজমাধ্যমে সামনে আনেন সৌগত মণ্ডল। তিনি দাবি করেছেন, শুধু কলেজ নোংরা করা নয়, এর পিছনে আরও বড় কোনও অসামাজিক চক্র কাজ করত কি না, তা তদন্ত করে দেখা দরকার। তাঁর অভিযোগ, কলেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ও জিনিসপত্র, যেগুলো প্রিন্সিপালের ঘরে থাকার কথা, সেগুলো নাকি উদ্ধার হয়েছে তৃণমূল ছাত্রনেতাদের ঘরের আলমারি থেকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কলেজ পরিচালনার উপর আসলে কার নিয়ন্ত্রণ ছিল? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, নাকি রাজনৈতিক সংগঠনের কিছু প্রভাবশালী সদস্য?

সৌগত মণ্ডল এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক বীরভূম প্রশাসনের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, কলেজের ভিতরে বছরের পর বছর কী ধরনের কার্যকলাপ চলত, ছাত্রছাত্রী বিশেষ করে মেয়েদের উপর কোনও ধরনের নির্যাতন বা চাপ সৃষ্টি করা হত কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। শুধু তাই নয়, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কলেজ প্রথমে খোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি কারণ ভিতরের পরিস্থিতি পরিষ্কার করার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু পরে তালা খুলতেই বেরিয়ে আসে এই ভয়ঙ্কর চিত্র।

আরও পড়ুনঃ গ্রাম থেকে শহরের পথে ‘দুলারী’, জি বাংলায় আসছে নতুন ধারাবাহিক! নাম ভূমিকায় দেখা যাবে কোন অভিনেত্রীকে? ফিরছে কি শ্বেতা বা অঙ্কিতা? জানলে চমকে যাবেন!

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বর্তমানে দাবি এটাই প্রমাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বাংলার বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতির আড়ালে কী ধরনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়ার জায়গা হওয়ার কথা, সেখানে যদি অসামাজিক কাজ, দাদাগিরি এবং অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখন দেখার, প্রশাসন এই ঘটনায় কত দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপ নেয় এবং লাভপুর শম্ভুনাথ কলেজের এই বিস্ফোরক অভিযোগের পিছনের সত্যি আদৌ সামনে আসে কি না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles