জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর দেবিনা ব্যানার্জি লিপিডিমা রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে আসতেই এই কম পরিচিত অসুখটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে সাধারণ মোটা হওয়ার সমস্যা বলে ভুল করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি আসলে শরীরের ফ্যাট টিস্যুর একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা সময়ের সঙ্গে জটিল হয়ে ওঠে এবং রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলে।
গুরগাঁওয়ের সিকে বিড়লা হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ অনমোল চুঘ জানান, লিপিডিমা কোনও সৌন্দর্যজনিত সমস্যা নয়। এই রোগে শরীরের দুই হাত ও দুই পায়ে সমানভাবে অস্বাভাবিক চর্বি জমে। তবে হাত ও পায়ের পাতা সাধারণত আক্রান্ত হয় না। আক্রান্ত স্থানে ব্যথা, সামান্য স্পর্শেই অস্বস্তি, সহজে কালশিটে পড়া এবং ভারী লাগার মতো উপসর্গ দেখা যায়, যা অনেক সময় রোগীরা বুঝতে পারেন না।
অনেকেই ডায়েট বা ব্যায়াম করেও ওজন কমাতে না পেরে হতাশ হন এবং নিজেদেরই দোষ দেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, লিপিডিমার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিগুলো খুব একটা কাজ করে না। ম্যানুয়াল লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বা কমপ্রেশন পোশাক ব্যবহার করলে সাময়িকভাবে ফোলাভাব কমতে পারে, তবে এগুলো রোগের মূল কারণ দূর করতে পারে না।
বর্তমানে লিপিডিমার চিকিৎসায় লিম্ফ্যাটিক স্পেয়ারিং লাইপোসাকশনকে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ধরা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন পাওয়ার অ্যাসিস্টেড বা ওয়াটার জেট অ্যাসিস্টেড লাইপোসাকশনের মাধ্যমে আক্রান্ত চর্বি অপসারণ করা সম্ভব, তাও আবার শরীরের লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে রক্ষা করে। এর ফলে ব্যথা কমে, চলাফেরা সহজ হয় এবং জোড়ের উপর চাপও কমে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দীর্ঘদিন ধরে হাত বা পায়ে অস্বাভাবিক চর্বি জমে, স্পর্শে ব্যথা হয় বা সহজে কালশিটে পড়ে এবং ওজন কমানোর চেষ্টা করেও কোনও পরিবর্তন না আসে, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে অবস্থার উন্নতি সম্ভব। দেবিনা ব্যানার্জির অভিজ্ঞতা সামনে আসায় এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।






